কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ডিভোর্সি স্বামীর মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ নিকটাত্মীয়রা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ মণ্ডল বাবুর স্ত্রী লাবনী সরকার ও তাঁর শ্বশুর ঠাকুরপদ সরকার।
লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের নবাবকাটি গ্রামের গোবিন্দ সরকারের ছেলে অর্জুন সরকারের সঙ্গে লাবনী সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বর্তমানে ওই সন্তান তার বাবা অর্জুন সরকারের কাছে রয়েছে বলে জানান তারা।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, যৌতুকের দাবি, মাদক সেবন ও মারধরের অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ৫৫৬/২৬ নম্বর স্মারকে স্বামী অর্জুন সরকারকে ডিভোর্স দেন লাবনী সরকার।
পরে পারিবারিক ভাবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ মণ্ডল বাবুর সঙ্গে লাবনী সরকারের বিয়ে হয়। বর্তমানে তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে সংসার করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লাবনী সরকার অভিযোগ করেন, ডিভোর্সের পর তাঁর সাবেক স্বামী অর্জুন সরকার স্বর্ণের হার, রুলি, পায়ের নূপুর, কানের দুল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন টেলিভিশন, অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে তাঁকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ মণ্ডল বাবুকেও জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেবপ্রসাদ মণ্ডল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, লাবনী সরকারের সঙ্গে দেবপ্রসাদ মণ্ডল বাবুর বিয়ের পর থেকেই সাবেক স্বামী অর্জুন সরকার তাঁদের পুত্রসন্তানকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লাবনী সরকার, ঠাকুরপদ সরকার, লক্ষ্মী সরকার ও ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ মণ্ডল বাবুসহ তাঁদের নিকটাত্মীয়রা এসব অভিযোগের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি তারালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



















