বায়েজিদে পুলিশের জোড়া অভিযান: অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১১ সদস্য গ্রেফতার।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বন্দুক, কার্তুজ, চাইনিজ কুড়ালসহ ডাকাতি করার একাধিক সরঞ্জাম।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) দিবাগত রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
বায়েজীদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সঙ্গীয় ফোর্স রাতে বিশেষ অভিযান ডিউটি পালন করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, চক্রেশো আবাসিক এলাকার ৪নং রোডের জি.এম ভবনের সামনে একদল ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে।
পুলিশের আভিযানিক দলটি তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জন ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ হাসান (২৮)
২. মোঃ মঈন উদ্দিন (২৫)
৩. মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (২১)
৪. মোঃ নয়ন (২০)
৫. আরিফুর রহমান বাবু (২০)
গ্রেফতারের পর তাদের তল্লাশি করে ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি এবং ১টি শক মেশিন উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই পুলক চন্দ্র মন্ডল ও তাঁর টিম অক্সিজেন সংলগ্ন রৌফাবাদ এলাকার বাগদাদ হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসের সামনে অপর একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানেও ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাতেনাতে আরও ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ সম্রাট (৩০)
২. মোঃ রবিউল হোসেন (২৪)
৩. জাহিদ হাসান (২৮)
৪. মোঃ রাজু (৩০)
৫. মোঃ রকিবুল হাসান (২৪)
৬. আব্দুর রহমান ভুট্টো মিয়া (৩২)
এই চক্রটির কাছ থেকে ১টি স্টিলের চাপাতি, ২টি স্টিলের ছুরি, ১টি লোহার কাটার এবং ১টি স্ক্রু ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি রেকর্ড যাচাই করে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের অনেকেই পেশাদার ও দাগী অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে আগেরও একাধিক মামলা রয়েছে:
মোঃ হাসান ডাকাতি ও খুনসহ ৩টি মামলা।
মোঃ সম্রাট: মাদক, চুরি ও অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা।
মোঃ রবিউল হোসেন: চুরি ও ডাকাতির ২টি মামলা।
জাহিদ হাসান: ডাকাতির ২টি মামলা।
মোঃ রাজু ও রকিবুল হাসান: পূর্ববর্তী বিভিন্ন অপরাধের মামলা।
বায়েজীদ বোস্তামী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারা (ডাকাতির প্রস্তুতি ও সমাবেশ) এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক তিনটি মামলা (মামলা নং-২৮, ২৯ ও ৩০) রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ (১৪ মে) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।






















