Dhaka ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো চেয়ারম্যান

কালিগঞ্জে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে শুরু অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পরপরই অসমাপ্ত ও বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বে সমাপ্ত দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে শ্রমিক নামানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংবাদ প্রকাশের চাপেই হঠাৎ করে এসব প্রকল্পে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। এখন পুনরায় কাজ শুরু হওয়ায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, জনমত ও প্রশাসনিক তদন্তের চাপ সামাল দিতেই লোকদেখানোভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের তৃষ্ণা মেটাতে এক তরুণের দীর্ঘ আন্দোলন

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যও। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,চেয়ারম্যান আমাদের কোনো গুরুত্ব দেন না। পরিষদের সদস্যদের অন্ধকারে রেখে আমাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল জনগণ পায়নি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন,চেয়ারম্যান একক আধিপত্য কায়েম করে পরিষদের অর্থ লুটপাট করছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন। তবে সমাপ্ত দেখানো প্রকল্পগুলোর কাজ কেন নতুন করে শুরু হয়েছে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

তবে এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে। মথুরেশপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো চেয়ারম্যান

আপডেটের সময়: ০৬:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কালিগঞ্জে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে শুরু অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পরপরই অসমাপ্ত ও বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বে সমাপ্ত দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে শ্রমিক নামানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংবাদ প্রকাশের চাপেই হঠাৎ করে এসব প্রকল্পে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। এখন পুনরায় কাজ শুরু হওয়ায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, জনমত ও প্রশাসনিক তদন্তের চাপ সামাল দিতেই লোকদেখানোভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের তৃষ্ণা মেটাতে এক তরুণের দীর্ঘ আন্দোলন

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যও। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,চেয়ারম্যান আমাদের কোনো গুরুত্ব দেন না। পরিষদের সদস্যদের অন্ধকারে রেখে আমাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল জনগণ পায়নি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন,চেয়ারম্যান একক আধিপত্য কায়েম করে পরিষদের অর্থ লুটপাট করছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন। তবে সমাপ্ত দেখানো প্রকল্পগুলোর কাজ কেন নতুন করে শুরু হয়েছে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

তবে এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে। মথুরেশপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।