Dhaka ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সিসিটিভি ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত হলেও অধরা, মামলা হয়নি ২ দিনেও।

রাউজানে যুবদল নেতা খুন: সিসিটিভি ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত হলেও অধরা, মামলা হয়নি ২ দিনেও।

 

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মাকসুদুল হককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় ‘রায়হান বাহিনী’র পাঁচ ক্যাডারকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তালিকায় এরা প্রত্যেকেই দাগী এবং তালিকাভুক্ত অপরাধী। তবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও এখনো মূল খুনিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, দায়ের হয়নি কোনো মামলাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে মাকসুদুল হককে টার্গেট করে কিলিং মিশনটি চালায় কুখ্যাত রায়হান বাহিনীর সদস্যরা। সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের শুরুতেই মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় গুলি চালায় কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস এবং দিদারুল আলম ওরফে দিদার। এরপর মাকসুদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রাউজান পৌরসভার মোহাম্মদ ইউসুফ, সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার দৌড়ে এসে অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’, বাস্তবে মুক্ত বাতাসে
পুলিশের রেকর্ড বলছে, এই চক্রের প্রধান রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৪টি গুরুতর মামলা রয়েছে। কিলিং স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা, যার মধ্যে ৫টিই খুনের। এছাড়া ইউসুফের নামে ৪টি এবং দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতায় নারী

এতো মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে এই সন্ত্রাসীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং একের পর এক অপরাধ ঘটায়—তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ওসির রহস্যজনক বক্তব্য ও পুলিশের বর্তমান অবস্থান
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান:

“ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আসামিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পেরেছি। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

যদিও নাম প্রকাশ না করার কথা বলা হলেও, ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যেই খুনিদের পরিচয় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এদিকে মূল আসামিদের কাউকে ধরতে না পারলেও, পুলিশ গতকাল রোববার মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামের এক স্থানীয় দোকানিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। নির্দিষ্ট মামলা না থাকায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মামলা করতে দেরি কেন?
হত্যাকাণ্ডের দুই দিন অতিবাহিত হলেও থানায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে নিহতের ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন জানান, রোববারই মাসুদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শোকাবহ পরিবেশ কাটিয়ে খুব দ্রুতই তারা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আসামিদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সিসিটিভিতে স্পষ্ট চেহারা দেখার পরও পুলিশের এই ‘খুঁজে না পাওয়ার’ ভূমিকা নিয়ে জনমনে এক ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সিসিটিভি ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত হলেও অধরা, মামলা হয়নি ২ দিনেও।

আপডেটের সময়: ০৬:৪০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাউজানে যুবদল নেতা খুন: সিসিটিভি ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত হলেও অধরা, মামলা হয়নি ২ দিনেও।

 

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মাকসুদুল হককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় ‘রায়হান বাহিনী’র পাঁচ ক্যাডারকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তালিকায় এরা প্রত্যেকেই দাগী এবং তালিকাভুক্ত অপরাধী। তবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও এখনো মূল খুনিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ, দায়ের হয়নি কোনো মামলাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে মাকসুদুল হককে টার্গেট করে কিলিং মিশনটি চালায় কুখ্যাত রায়হান বাহিনীর সদস্যরা। সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের শুরুতেই মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় গুলি চালায় কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস এবং দিদারুল আলম ওরফে দিদার। এরপর মাকসুদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রাউজান পৌরসভার মোহাম্মদ ইউসুফ, সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার দৌড়ে এসে অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’, বাস্তবে মুক্ত বাতাসে
পুলিশের রেকর্ড বলছে, এই চক্রের প্রধান রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৪টি গুরুতর মামলা রয়েছে। কিলিং স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা, যার মধ্যে ৫টিই খুনের। এছাড়া ইউসুফের নামে ৪টি এবং দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

এতো মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে এই সন্ত্রাসীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং একের পর এক অপরাধ ঘটায়—তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ওসির রহস্যজনক বক্তব্য ও পুলিশের বর্তমান অবস্থান
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান:

“ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আসামিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পেরেছি। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

যদিও নাম প্রকাশ না করার কথা বলা হলেও, ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যেই খুনিদের পরিচয় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এদিকে মূল আসামিদের কাউকে ধরতে না পারলেও, পুলিশ গতকাল রোববার মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামের এক স্থানীয় দোকানিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। নির্দিষ্ট মামলা না থাকায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

মামলা করতে দেরি কেন?
হত্যাকাণ্ডের দুই দিন অতিবাহিত হলেও থানায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে নিহতের ভাই এবং বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন জানান, রোববারই মাসুদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শোকাবহ পরিবেশ কাটিয়ে খুব দ্রুতই তারা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আসামিদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সিসিটিভিতে স্পষ্ট চেহারা দেখার পরও পুলিশের এই ‘খুঁজে না পাওয়ার’ ভূমিকা নিয়ে জনমনে এক ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে।