Dhaka ১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দীর্ঘ বিরতি শেষে টেনিস কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস! জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ যশোর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামালসহ আটক-১ বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ মে মাসে এনসিটির নতুন রেকর্ড: এক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং। ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও ব্যাগ উদ্ধার সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল এসো.’র অ্যাডহক কমিটিকে শ্যামনগর ফুটবল একাডেমির অভিনন্দন

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

পূর্ব দিগন্ত বার্তা

অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিকরগাছার একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত-৫ আহত-২
জনপ্রিয় পোস্ট

যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

আপডেটের সময়: ০৯:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
আরও পড়ুন
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
ই-পেপার
আরও পড়ুনঃ  চৌগাছা-বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ