Dhaka ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১ গোবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যের যোগদান গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও : কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উদযাপনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ। অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ন্যাম ভবনে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ, তদন্ত শুরু

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

পূর্ব দিগন্ত বার্তা

অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
আরও পড়ুনঃ  যশোরে ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র ৩৫ দিন ধরে নিখোঁজ, দুশ্চিন্তায় পরিবার
জনপ্রিয় পোস্ট

মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

আপডেটের সময়: ০৯:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
আরও পড়ুন
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
ই-পেপার
আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী