Dhaka ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত পুলিশে বড় রদবদল, ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন জঙ্গল সলিমপুরে তিন শতাধিক সদস্যের যৌথ অভিযান। তিন বছর পর গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে আবারও ফিরছে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শৃঙ্খলা জোরদারে গোপালগঞ্জে পুলিশে মাস্টার প্যারেড ও অপরাধ কল্যাণ সভা : শার্শায় বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ কওমি মাদ্রাসার কমিটি গঠন: সভাপতি হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইমামুল সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা

এক উপজেলাতেই মাত্র এক বছরে ৫৮১ তালাক!

এক উপজেলাতেই মাত্র এক বছরে ৫৮১ তালাক!

আশঙ্কাজনক হারে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে মাগুরার শালিখায়। মাত্র এক বছরেই এই এক উপজেলাতে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকাংশ তালাকের নোটিশ আসছে নারীদের পক্ষ থেকে। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বয়স সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শালিখা উপজেলার সাত ইউনিয়নে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তালখড়ি ইউনিয়নে ১৪৪টি, শতখালী ইউনিয়নে ১২২টি, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ২৪টি, আড়পাড়া ইউনিয়নে ১০৪টি, বুনাগাতী ইউনিয়নে ৬৪টি, শালিখা ইউনিয়নে ৭৯টি ও ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নে ৪৪টি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে এই এক বছরে। একই সময়ে সেখানে সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৪২টি বিবাহ।

আরও পড়ুনঃ  সহপাঠীকে বাঁচাতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

এর আগের বছর; অর্থাৎ ২০২৪ সালেও এই এক উপজেলায় ঘটেছে ৫ শতাধিক বিবাহ বিচ্ছেদ। শালিখার সাত ইউনিয়নে মোট ৫১১টি তালাকের ঘটনা ঘটেছিল ওই বছর, যেখানে নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল ৮৫২টি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে শালিখায়।

২০২৫ সালের তালাকের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছেলে পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে ৩৮টি, উভয় পক্ষের সম্মতিতে মিউচুয়াল তালাক হয়েছে ১৯৩টি এবং নারী পক্ষ থেকে ‘ডি’ তালাক হয়েছে ৩৪৮টি, যা পুরুষ পক্ষের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। তালাকের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে তালখড়ি ইউনিয়ন, আর সবচেয়ে কম বিচ্ছেদ ঘটেছে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

শালিখার আড়পাড়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার রোকনুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে রয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক। এছাড়া পারিবারিক বনিবনার অভাব, স্বামীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা কারণও দায়ী।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে আমরা মাঝে মাঝে উঠান বৈঠক করে থাকি। তবে, এসব বিষয় মূলত ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত।

তালাক বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে শালিখা উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, ইসলাম নিয়ে অজ্ঞতা, পরকীয়া, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। এর ফলে, সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মানুষের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইমদাদুল হক ইমদাদ

বিবাহ বিচ্ছেদের এই ঊর্ধ্বগতি শালিখা উপজেলার সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পরিবার ভেঙে গেলে তার প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক বন্ধন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় পোস্ট

শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

এক উপজেলাতেই মাত্র এক বছরে ৫৮১ তালাক!

আপডেটের সময়: ১২:০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

এক উপজেলাতেই মাত্র এক বছরে ৫৮১ তালাক!

আশঙ্কাজনক হারে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে মাগুরার শালিখায়। মাত্র এক বছরেই এই এক উপজেলাতে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকাংশ তালাকের নোটিশ আসছে নারীদের পক্ষ থেকে। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বয়স সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শালিখা উপজেলার সাত ইউনিয়নে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তালখড়ি ইউনিয়নে ১৪৪টি, শতখালী ইউনিয়নে ১২২টি, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ২৪টি, আড়পাড়া ইউনিয়নে ১০৪টি, বুনাগাতী ইউনিয়নে ৬৪টি, শালিখা ইউনিয়নে ৭৯টি ও ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নে ৪৪টি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে এই এক বছরে। একই সময়ে সেখানে সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৪২টি বিবাহ।

আরও পড়ুনঃ  সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের দাবি

এর আগের বছর; অর্থাৎ ২০২৪ সালেও এই এক উপজেলায় ঘটেছে ৫ শতাধিক বিবাহ বিচ্ছেদ। শালিখার সাত ইউনিয়নে মোট ৫১১টি তালাকের ঘটনা ঘটেছিল ওই বছর, যেখানে নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল ৮৫২টি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে শালিখায়।

২০২৫ সালের তালাকের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছেলে পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে ৩৮টি, উভয় পক্ষের সম্মতিতে মিউচুয়াল তালাক হয়েছে ১৯৩টি এবং নারী পক্ষ থেকে ‘ডি’ তালাক হয়েছে ৩৪৮টি, যা পুরুষ পক্ষের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। তালাকের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে তালখড়ি ইউনিয়ন, আর সবচেয়ে কম বিচ্ছেদ ঘটেছে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

শালিখার আড়পাড়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার রোকনুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে রয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক। এছাড়া পারিবারিক বনিবনার অভাব, স্বামীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা কারণও দায়ী।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে আমরা মাঝে মাঝে উঠান বৈঠক করে থাকি। তবে, এসব বিষয় মূলত ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত।

তালাক বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে শালিখা উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, ইসলাম নিয়ে অজ্ঞতা, পরকীয়া, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। এর ফলে, সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মানুষের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

বিবাহ বিচ্ছেদের এই ঊর্ধ্বগতি শালিখা উপজেলার সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, পরিবার ভেঙে গেলে তার প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক বন্ধন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।