Dhaka ০১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

কলারোয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল-দা নিয়ে তাণ্ডব

কলারোয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল-দা নিয়ে তাণ্ডব, গুরুতর আহত গৃহবধূ, থানায় মামলা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তুচ্ছ একটি কাঁঠাল পাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল, ধারালো দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে নারীসহ তিনজনকে রক্তাক্ত জখম, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটানোর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক গৃহবধূকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত মো. আনারুল ইসলাম (৬২) কলারোয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করে মো. রেজাউল করিম (৬৫), মো. আতিকুর রহমান (২৫) ও মোছা. রোকিয়া খাতুন (৫৮)-কে আসামি করেছেন। এজাহার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ খুঁজছিল।

 

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিজিবি'র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত আসামীরা কুড়াল, ধারালো দা ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদীর স্ত্রী মাছুরা খাতুন (৫৫) প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রথম আসামি কুড়ালের উল্টো অংশ দিয়ে তার বাম হাঁটুতে একাধিক আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

 

এসময় তাকে শ্লীলতাহানী করাকালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাদীর মেয়ে শারমিন খাতুন (৩০)-কেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে- দ্বিতীয় আসামি তার কাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং তৃতীয় আসামি চুল ধরে মাটিতে ফেলে বুকে ও পেটে লাথি মারেন। পরিবারের সদস্যদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে বাদী আনারুল ইসলামের ওপরও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ

প্রথম আসামি কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে মাথার ডান পাশে গভীর রক্তাক্ত ক্ষত হয়। পরে দ্বিতীয় আসামি ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়।

 

বাদীর দাবি, তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে আহতদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনারুল ইসলামের মাথায় চারটি সেলাই দেন। তার স্ত্রী মাছুরা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ভর্তি রয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ওসি জানায়, লিখিত এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

কলারোয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল-দা নিয়ে তাণ্ডব

আপডেটের সময়: ১০:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কলারোয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল-দা নিয়ে তাণ্ডব, গুরুতর আহত গৃহবধূ, থানায় মামলা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে তুচ্ছ একটি কাঁঠাল পাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে ঢুকে কুড়াল, ধারালো দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে নারীসহ তিনজনকে রক্তাক্ত জখম, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটানোর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক গৃহবধূকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত মো. আনারুল ইসলাম (৬২) কলারোয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করে মো. রেজাউল করিম (৬৫), মো. আতিকুর রহমান (২৫) ও মোছা. রোকিয়া খাতুন (৫৮)-কে আসামি করেছেন। এজাহার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ খুঁজছিল।

 

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত আসামীরা কুড়াল, ধারালো দা ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদীর স্ত্রী মাছুরা খাতুন (৫৫) প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রথম আসামি কুড়ালের উল্টো অংশ দিয়ে তার বাম হাঁটুতে একাধিক আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

 

এসময় তাকে শ্লীলতাহানী করাকালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাদীর মেয়ে শারমিন খাতুন (৩০)-কেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে- দ্বিতীয় আসামি তার কাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং তৃতীয় আসামি চুল ধরে মাটিতে ফেলে বুকে ও পেটে লাথি মারেন। পরিবারের সদস্যদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে বাদী আনারুল ইসলামের ওপরও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুনঃ  বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল

প্রথম আসামি কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে মাথার ডান পাশে গভীর রক্তাক্ত ক্ষত হয়। পরে দ্বিতীয় আসামি ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়।

 

বাদীর দাবি, তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে আহতদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনারুল ইসলামের মাথায় চারটি সেলাই দেন। তার স্ত্রী মাছুরা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ভর্তি রয়েছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ওসি জানায়, লিখিত এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।