Dhaka ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

কালিগঞ্জে ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাতদিনের মধ্যেই ড্রেন ও কালভার্টের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শনিবার (০৯ মে ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (বিবিজি) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি থেকে উত্তর শীতলপুর এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ির পাশে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার ৯শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুনঃ  আগামী বর্ষায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্নতা থেকে মুক্ত থাকবে: চসিক মেয়র।

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৫০ ফুট এবং উচ্চতা ১ দশমিক ৫ ফুট। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোদাচ্ছের রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নির্মাণে অনিয়ম ছিল চোখে পড়ার মতো। নিম্নমানের ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় পুকুর সংস্কারের নামে বর্ধিতকরণ চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব

 

তারা আরও জানান, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নিয়েছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত উন্নয়নকাজ এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছাঃ জাহানারা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রকল্পটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

 

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোদাচ্ছের রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় যেমন বাড়বে, তেমনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট হবে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুনরায় কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

  • তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আমি এখনো সরেজমিনে যাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যেন সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ  জলাবদ্ধতা থেকে অর্ধশত পরিবারকে মুক্ত করলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী
জনপ্রিয় পোস্ট

কালিগঞ্জে ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

আপডেটের সময়: ০৯:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

কালিগঞ্জে ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাতদিনের মধ্যেই ড্রেন ও কালভার্টের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শনিবার (০৯ মে ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (বিবিজি) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি থেকে উত্তর শীতলপুর এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ির পাশে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার ৯শ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুনঃ  চোরাচালানের দাপটে কোণঠাসা মসলার বাজার

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৫০ ফুট এবং উচ্চতা ১ দশমিক ৫ ফুট। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোদাচ্ছের রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নির্মাণে অনিয়ম ছিল চোখে পড়ার মতো। নিম্নমানের ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: কারাদণ্ড ৩ গ্রেফতার ১

 

তারা আরও জানান, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নিয়েছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত উন্নয়নকাজ এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছাঃ জাহানারা বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রকল্পটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

 

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোদাচ্ছের রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় যেমন বাড়বে, তেমনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট হবে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুনরায় কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

  • তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আমি এখনো সরেজমিনে যাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যেন সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ ফাইনালে ধামোইরহাটকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মান্দা