Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার।

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার।

 

ঢাকা থেকে খেলা শেষ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছিলেন। কিন্তু নিজ শহর চট্টগ্রামেই চরম পুলিশি হয়রানি ও নির্মম মারধরের শিকার হতে হলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তাকে হেনস্তা ও অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ইতিমধ্যেই খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান তিনি। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গাড়িটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নেমে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা সেটির গতিবিধি রোধ করে। নাঈম বলেন:

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

“গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে চালকের থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আমাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। আমি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও তারা থামেনি। উল্টো খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তার সঙ্গে থাকা সোহেল নামে এক সোর্সও পাইপ দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটায়।”

মারধরের একপর্যায়ে নাঈমকে পুলিশের গাড়িতে না তুলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

পরবর্তীতে নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওসির কক্ষে গিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈমের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর সময় ওসি উল্টো তাকে ধমক দিয়ে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে একটি ফোন আসার পর ওসির আচরণ নরম হয়।

এই বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “থানার সেকেন্ড অফিসারের দেওয়া চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক আমাকে না জানিয়েই এই অভিযান চালিয়েছিল এবং নাঈম হাসানকে থানায় এনেছিল।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, চোরাচালান রোধের একটি অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়ম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখেনি বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকুলসহ তিনজনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশের একজন সম্মানিত জাতীয় ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন:

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

“চট্টগ্রামের গর্ব ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর এই পুলিশি নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ ও তাদের সোর্স অত্যন্ত বর্বর আচরণ করেছে, যা কোনো সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেই কাম্য নয়।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার।

আপডেটের সময়: ১১:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার।

 

ঢাকা থেকে খেলা শেষ করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছিলেন। কিন্তু নিজ শহর চট্টগ্রামেই চরম পুলিশি হয়রানি ও নির্মম মারধরের শিকার হতে হলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তাকে হেনস্তা ও অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ইতিমধ্যেই খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান তিনি। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

গাড়িটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে নেমে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা সেটির গতিবিধি রোধ করে। নাঈম বলেন:

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

“গাড়ি থামানোর পরপরই ডিবি পরিচয়ে চালকের থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আমাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। আমি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখালেও তারা থামেনি। উল্টো খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করতে থাকেন। তার সঙ্গে থাকা সোহেল নামে এক সোর্সও পাইপ দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটায়।”

মারধরের একপর্যায়ে নাঈমকে পুলিশের গাড়িতে না তুলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

পরবর্তীতে নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওসির কক্ষে গিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈমের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর সময় ওসি উল্টো তাকে ধমক দিয়ে চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। পরবর্তীতে একটি ফোন আসার পর ওসির আচরণ নরম হয়।

এই বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “থানার সেকেন্ড অফিসারের দেওয়া চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক আমাকে না জানিয়েই এই অভিযান চালিয়েছিল এবং নাঈম হাসানকে থানায় এনেছিল।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, চোরাচালান রোধের একটি অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়ম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখেনি বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকুলসহ তিনজনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশের একজন সম্মানিত জাতীয় ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন:

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতায় নারী

“চট্টগ্রামের গর্ব ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর এই পুলিশি নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, নাঈম হাসান নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ ও তাদের সোর্স অত্যন্ত বর্বর আচরণ করেছে, যা কোনো সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেই কাম্য নয়।