Dhaka ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

গভীর রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুল গ্রামে সামান্য এক টুকরো জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গোলাপী বেগম যশোর সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

ঘটনাটি ঘটে ৭ এপ্রিল গভীর রাতে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ তৌহিদসহ প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ হামলায় চারজনকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং আহত গোলাপি বেগমের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় আহত গোলাপী বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার নিজের ভিটাবাড়ির জমি থেকে জোর করে যাতায়াতের রাস্তা নিতে চায় প্রতিপক্ষ। আমরা বাধা দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট চালায়। আমাকে ও আমার পরিবারকে নির্মমভাবে মারধর করে।

আরও পড়ুনঃ  কাহারোলে ১৭৫ অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা বিতরণ

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থেমে থাকেনি, বরং তার মাথার চুল কেটে দিয়ে অপমানজনক আচরণ করেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় তারা পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। গোলাপী বেগম বলেন, এই ঘটনার পূর্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসকের সহযোগিতা না পেয়ে আমি আদালতে দুইটি মামলা করেছি। এখনো মামলা দুটি বাঘারপাড়া থানার অধীনে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আছে। ঘটনার আগে এবং পরে আমরা পুলিশের কোন সহযোগিতা পাইনি।

“আমি ওসিকে কল দিয়েও পাইনি। পরে ৯৯৯-এ ফোন করি। কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পর যোগাযোগ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও আমাদের উদ্ধার না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখেছে। আমি তাদের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়েছি, কিন্তু কোনো সাহায্য পাইনি।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে তৌহিদ, কামরুল, আজিজুর, তারেক, মিঠু, সুমন, সোহাগ, তৈমুর, নাইম, মুন্না, হারুনসহ আরও অনেকে এবং কয়েকজন নারী সদস্যও জড়িত ছিল।

 

আরও পড়ুনঃ  মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

হামলার সময় বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
বর্তমানে গুরুতর আহত গোলাপী বেগম যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরিবারের অন্যান্য আহত সদস্যরাও চিকিৎসাধীন।গোলাপী বেগমের কণ্ঠে শুধু একটাই আর্তনাদ—
“আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না… আল্লাহর বিচার একদিন হবেই ইনশাল্লাহ।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রশাসনের অভিযানে ৬ হাউসবোট কে জরিমানা ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ।

 

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি ছোট জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নৃশংস হামলা শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

গভীর রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত

আপডেটের সময়: ০৮:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুল গ্রামে সামান্য এক টুকরো জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গোলাপী বেগম যশোর সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

ঘটনাটি ঘটে ৭ এপ্রিল গভীর রাতে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ তৌহিদসহ প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ হামলায় চারজনকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং আহত গোলাপি বেগমের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় আহত গোলাপী বেগম অভিযোগ করে বলেন,আমার নিজের ভিটাবাড়ির জমি থেকে জোর করে যাতায়াতের রাস্তা নিতে চায় প্রতিপক্ষ। আমরা বাধা দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট চালায়। আমাকে ও আমার পরিবারকে নির্মমভাবে মারধর করে।

আরও পড়ুনঃ  খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থেমে থাকেনি, বরং তার মাথার চুল কেটে দিয়ে অপমানজনক আচরণ করেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় তারা পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। গোলাপী বেগম বলেন, এই ঘটনার পূর্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসকের সহযোগিতা না পেয়ে আমি আদালতে দুইটি মামলা করেছি। এখনো মামলা দুটি বাঘারপাড়া থানার অধীনে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আছে। ঘটনার আগে এবং পরে আমরা পুলিশের কোন সহযোগিতা পাইনি।

“আমি ওসিকে কল দিয়েও পাইনি। পরে ৯৯৯-এ ফোন করি। কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পর যোগাযোগ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও আমাদের উদ্ধার না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখেছে। আমি তাদের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়েছি, কিন্তু কোনো সাহায্য পাইনি।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে তৌহিদ, কামরুল, আজিজুর, তারেক, মিঠু, সুমন, সোহাগ, তৈমুর, নাইম, মুন্না, হারুনসহ আরও অনেকে এবং কয়েকজন নারী সদস্যও জড়িত ছিল।

 

আরও পড়ুনঃ  পূর্ব বিরোধের জেরে চর ঈশ্বরদিয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেফতার ৪

হামলার সময় বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
বর্তমানে গুরুতর আহত গোলাপী বেগম যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরিবারের অন্যান্য আহত সদস্যরাও চিকিৎসাধীন।গোলাপী বেগমের কণ্ঠে শুধু একটাই আর্তনাদ—
“আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না… আল্লাহর বিচার একদিন হবেই ইনশাল্লাহ।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় যুক্তদের নিয়ে যশোরে ‘টিচার্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ গঠন: ইলিয়াস আহ্বায়ক, সোহেল সদস্য সচিব

 

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি ছোট জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নৃশংস হামলা শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।