Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন বাতিল হওয়া জরুরি। ———–কাউন্সিলার নওশাদ আলী

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় হলো—দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইন এখন সময়ের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ এবং তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করা প্রয়োজন।
আজকের বিশ্ব আর সীমাবদ্ধ ভূখণ্ডে আটকে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে লাখো বাংলাদেশি পড়াশোনা, পেশা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ী জীবনের প্রয়োজনে বিদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন—এটি দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবতার স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেই কি একজন মানুষের দেশপ্রেম, দেশচিন্তা বা দেশের জন্য কাজ করার অধিকার শেষ হয়ে যায়? উত্তর স্পষ্টভাবে—না।
ইংল্যান্ডের দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বাধা নয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য। সেখানে পার্লামেন্ট সদস্য, মেয়র, কাউন্সিলর—সব পর্যায়েই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী রাজনীতিবিদ রয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় সকলেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তবুও তারা সফলভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। তাহলে ইংল্যান্ডে যা সম্ভব, বাংলাদেশে তা অসম্ভব কেন?
বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রবাসীরা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আধুনিক প্রশাসনিক ধারণাও সঙ্গে নিয়ে আসেন। যদি এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষদের শুধু দ্বৈত নাগরিকত্বের অজুহাতে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে দেশ নিজেই নিজের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে।
অনেকে যুক্তি দেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কিন্তু স্বার্থের সংঘাত কোনো নাগরিকত্বের সঙ্গে নয়, বরং নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একক নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের আছে। তাই সমস্যার সমাধান নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং শক্তিশালী আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো জনগণের পছন্দের অধিকার। জনগণ যদি মনে করে কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি তাদের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কেন সেই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? জনগণই হওয়া উচিত শেষ বিচারক।
সময় এসেছে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। সময় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুধু ভোটার নয়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন একটি বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বিধান। এটি বাতিল করতে হবে।
ইংল্যান্ডে যদি সম্ভব হয়, বাংলাদেশেও তা অবশ্যই সম্ভব। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক গণতান্ত্রিক মানসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার স্পষ্ট প্রকাশ। দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো অযোগ্যতার পরিচয় নয়; বরং এটি বিশ্বদর্শন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। এই আইন বাতিল হলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্র হবে আরও প্রাণবন্ত। একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও অগ্রসর বাংলাদেশের জন্য এই সংস্কার শুধু প্রয়োজনীয় নয়—অপরিহার্য।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

লেখক: নওশাদ আলী
এনফিল্ড কাউন্সিল, লন্ডন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন বাতিল হওয়া জরুরি। ———–কাউন্সিলার নওশাদ আলী

আপডেটের সময়: ০৫:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় হলো—দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইন এখন সময়ের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ এবং তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করা প্রয়োজন।
আজকের বিশ্ব আর সীমাবদ্ধ ভূখণ্ডে আটকে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে লাখো বাংলাদেশি পড়াশোনা, পেশা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ী জীবনের প্রয়োজনে বিদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন—এটি দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবতার স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেই কি একজন মানুষের দেশপ্রেম, দেশচিন্তা বা দেশের জন্য কাজ করার অধিকার শেষ হয়ে যায়? উত্তর স্পষ্টভাবে—না।
ইংল্যান্ডের দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো বাধা নয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য। সেখানে পার্লামেন্ট সদস্য, মেয়র, কাউন্সিলর—সব পর্যায়েই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী রাজনীতিবিদ রয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় সকলেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তবুও তারা সফলভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। তাহলে ইংল্যান্ডে যা সম্ভব, বাংলাদেশে তা অসম্ভব কেন?
বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রবাসীরা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও আধুনিক প্রশাসনিক ধারণাও সঙ্গে নিয়ে আসেন। যদি এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষদের শুধু দ্বৈত নাগরিকত্বের অজুহাতে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে দেশ নিজেই নিজের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে।
অনেকে যুক্তি দেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কিন্তু স্বার্থের সংঘাত কোনো নাগরিকত্বের সঙ্গে নয়, বরং নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একক নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য উদাহরণ আমাদের আছে। তাই সমস্যার সমাধান নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং শক্তিশালী আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো জনগণের পছন্দের অধিকার। জনগণ যদি মনে করে কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি তাদের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি, তাহলে রাষ্ট্রের আইন কেন সেই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? জনগণই হওয়া উচিত শেষ বিচারক।
সময় এসেছে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। সময় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুধু ভোটার নয়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না—এই আইন একটি বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বিধান। এটি বাতিল করতে হবে।
ইংল্যান্ডে যদি সম্ভব হয়, বাংলাদেশেও তা অবশ্যই সম্ভব। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক গণতান্ত্রিক মানসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি রাষ্ট্রের আস্থার স্পষ্ট প্রকাশ। দ্বৈত নাগরিকত্ব কোনো অযোগ্যতার পরিচয় নয়; বরং এটি বিশ্বদর্শন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতিফলন। এই আইন বাতিল হলে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্র হবে আরও প্রাণবন্ত। একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও অগ্রসর বাংলাদেশের জন্য এই সংস্কার শুধু প্রয়োজনীয় নয়—অপরিহার্য।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

লেখক: নওশাদ আলী
এনফিল্ড কাউন্সিল, লন্ডন।