পুলিশ ও সাধারণ জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার মাধ্যমে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারাদেশে গঠিতক ও পালিত হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং ডে। পুলিশ ও জনগণের অংশীদারিত্বে নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব।
কমিউনিটি পুলিশিং হলো একটি আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা, যেখানে পুলিশ ও জনগণ একসাথে কাজ করে অপরাধ প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থায় পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী নয়, বরং জনগণের বন্ধু, সহায়ক ও সেবক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
কমিউনিটি পুলিশিং ধারণার উৎপত্তি ঘটে ১৮২৯ সালে ইংল্যান্ডে। আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থার জনক স্যার রবার্ট পিলের দর্শন— “Police are the public and the public are the police”—এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই জনগণের অংশগ্রহণমূলক পুলিশিং ব্যবস্থার সূচনা হয়। পরবর্তীতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয় পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৮–২০০৯ সালে। পরবর্তীতে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। বর্তমানে জেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণ যৌথভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।
যদিও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই, তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১, ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদসহ Police Act 1861 এবং Police Regulations of Bengal-এর আলোকে জনগণের অংশগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সুযোগ রয়েছে।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের আগেই প্রতিরোধ, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন, ইভটিজিং প্রতিরোধ, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
একটি সমাজ তখনই নিরাপদ হয় যখন জনগণ পুলিশের পাশে থাকে এবং পুলিশ জনগণের কথা শোনে। পুলিশ ও জনগণের ঐক্যই পারে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে। তাই আসুন পুলিশকে সাহায্য করি।মানবিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ি। লেখকঃ এফ,এম,এ রাজ্জাক, একজন আইনজীবী,মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক। মোবাঃ 01711-075251।




















