ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় গাঁজাসহ যুবক আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ঋষিপাড়া এলাকায় গাঁজা বহনের অভিযোগে বাদশা কুমার (১৯) নামে এক যুবককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
আটক বাদশা কুমার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের অসীম কুমারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাঁকড়া ঋষিপাড়া এলাকা থেকে গাঁজা নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বাদশাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচ মোড়া গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয়রা বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিলে এসআই ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এএসআই রাসেলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা উদ্ধারের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়।
স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা কুমার বাঁকড়া ঋষিপাড়ার কথিত গাঁজা ব্যবসায়ী মানিক ওরফে ‘মানিক খোঁড়া’র কাছ থেকে গাঁজা কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে মানিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদক ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর বাদশা কুমারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা ও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ‘বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে জানতে পারি, মাদকদ্রব্য বহনের সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাই। মাদকদ্রব্য যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বাঁকড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন বিকেল ৫টার পর থেকে রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত মানিক ও সাধন নামে কয়েকজনের বাড়িতে চায়ের দোকানের মতো পরিবেশে গাঁজা ও ইয়াবা বড়ি কেনাবেচা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এভাবে মাদক কেনাবেচা চললেও তা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে। এর পেছনে প্রভাবশালী কারও হাত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্থানীয়দের করা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




















