Dhaka ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

বাইকুনুর জাতের আঙুর উৎপাদনে সফলতা দুই কৃষি উদ্যোক্তা

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনুর জাতের আঙুর উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা

 

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার গঙ্গারহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী গ্রামে দুই উদ্যোক্তা হাসেম আলী ও রুহুল আমীন যৌথ উদ্যোগে দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আঙুর বাগান। সেখানে রয়েছে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরগাছ। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সংগৃহীত চারা দিয়ে এই বাগান শুরু করেন তারা।

 

উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৫০টি চারা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুরচাষ শুরু করেন তারা। রাশিয়ার মতো শীতের দেশের আঙুর যে কুড়িগ্রামের মাটিতেও ফলবে—তা শুরুতে কেউই বিশ্বাস করেননি। তবে তারা থেমে যাননি। আট মাসের মাথায় গাছে ফল ধরতে শুরু করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গাছের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফল সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সে বছর তারা ৫০টি গাছ থেকে ২০০ কেজি আঙুর বিক্রি করেন। এর পরের বছর ৪০০ কেজি, ২০২৪ সালে ৬০০ কেজি এবং গত বছর সংগ্রহ হয়েছে ৮০০ কেজি আঙুর। চলতি বছর নতুন করে আরও ১০টি গাছে ফল ধরেছে। বর্তমানে ৬০টি গাছে ফল এসেছে। এ বছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

দুই উদ্যোক্তার একজন রুহুল আমীন পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা এবং হাসেম আলী কৃষক। তারা লিজ নেওয়া জমিতে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানে আঙুরের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আমগাছও রয়েছে।

হাসেম আলী বলেন, ‘ইউক্রেনে থাকা এক বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম আঙুরচাষের ধারণা পাই। পরে আত্মীয় রুহুল আমীনের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে উদ্যোগ নিই। অনেক বাধা ছিল, কিন্তু এখন সফলতা পেয়ে ভালো লাগছে। এ বছর খরচ বাদ দিয়ে ৯ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

রুহুল আমীন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে বাগান করতে এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। চারা ও ফল বিক্রির মাধ্যমে এই খরচ উঠে এসেছে। আগামী বছর থেকে আরও বেশি আয় হবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘প্রথমে বিশ্বাস করিনি কুড়িগ্রামের মাটিতে আঙুর হবে। এখন নিজ চোখে দেখে বিশ্বাস করেছি। আমিও ২০টি চারা কিনেছি, ছোট বাগান করব।

স্থানীয় তরুণ মোহন চন্দ্র রায় বলেন, ‘নিজ গ্রামে আঙুর বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ১০টি চারা লাগিয়েছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষ করব।’ ফল ব্যবসায়ী নুর আমিন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ আঙুর বাজারে খুব ভালো সাড়া পেয়েছে। ক্রেতারা কিনে খুশি। বিদেশি আঙুরের মতোই স্বাদ ও আকার।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ির আঙিনা ও ছাদে সীমিত পরিসরে আঙুর চাষ হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে উৎপাদন হচ্ছে ফুলবাড়ীতে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, ‘বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে আঙুর চাষ করে হাসেম আলী ও রুহুল আমীন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

তাদের বাগানের ফলন ভালো, স্বাদও চমৎকার। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। নতুন কেউ আঙুরচাষ করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

বাইকুনুর জাতের আঙুর উৎপাদনে সফলতা দুই কৃষি উদ্যোক্তা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনুর জাতের আঙুর উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা

 

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার গঙ্গারহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী গ্রামে দুই উদ্যোক্তা হাসেম আলী ও রুহুল আমীন যৌথ উদ্যোগে দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আঙুর বাগান। সেখানে রয়েছে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরগাছ। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সংগৃহীত চারা দিয়ে এই বাগান শুরু করেন তারা।

 

উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৫০টি চারা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুরচাষ শুরু করেন তারা। রাশিয়ার মতো শীতের দেশের আঙুর যে কুড়িগ্রামের মাটিতেও ফলবে—তা শুরুতে কেউই বিশ্বাস করেননি। তবে তারা থেমে যাননি। আট মাসের মাথায় গাছে ফল ধরতে শুরু করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গাছের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফল সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

সে বছর তারা ৫০টি গাছ থেকে ২০০ কেজি আঙুর বিক্রি করেন। এর পরের বছর ৪০০ কেজি, ২০২৪ সালে ৬০০ কেজি এবং গত বছর সংগ্রহ হয়েছে ৮০০ কেজি আঙুর। চলতি বছর নতুন করে আরও ১০টি গাছে ফল ধরেছে। বর্তমানে ৬০টি গাছে ফল এসেছে। এ বছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

দুই উদ্যোক্তার একজন রুহুল আমীন পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা এবং হাসেম আলী কৃষক। তারা লিজ নেওয়া জমিতে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানে আঙুরের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আমগাছও রয়েছে।

হাসেম আলী বলেন, ‘ইউক্রেনে থাকা এক বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম আঙুরচাষের ধারণা পাই। পরে আত্মীয় রুহুল আমীনের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে উদ্যোগ নিই। অনেক বাধা ছিল, কিন্তু এখন সফলতা পেয়ে ভালো লাগছে। এ বছর খরচ বাদ দিয়ে ৯ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতায় নারী

রুহুল আমীন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে বাগান করতে এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। চারা ও ফল বিক্রির মাধ্যমে এই খরচ উঠে এসেছে। আগামী বছর থেকে আরও বেশি আয় হবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘প্রথমে বিশ্বাস করিনি কুড়িগ্রামের মাটিতে আঙুর হবে। এখন নিজ চোখে দেখে বিশ্বাস করেছি। আমিও ২০টি চারা কিনেছি, ছোট বাগান করব।

স্থানীয় তরুণ মোহন চন্দ্র রায় বলেন, ‘নিজ গ্রামে আঙুর বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ১০টি চারা লাগিয়েছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষ করব।’ ফল ব্যবসায়ী নুর আমিন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ আঙুর বাজারে খুব ভালো সাড়া পেয়েছে। ক্রেতারা কিনে খুশি। বিদেশি আঙুরের মতোই স্বাদ ও আকার।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ির আঙিনা ও ছাদে সীমিত পরিসরে আঙুর চাষ হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে উৎপাদন হচ্ছে ফুলবাড়ীতে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, ‘বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে আঙুর চাষ করে হাসেম আলী ও রুহুল আমীন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

তাদের বাগানের ফলন ভালো, স্বাদও চমৎকার। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। নতুন কেউ আঙুরচাষ করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে।