Dhaka ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ঝিকরগাছা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতায় নারী ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু ঝিকরগাছায় ফাজিল (স্নাতক) পরীক্ষা নকল মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছায় আবাসিক হাফেজি মাদ্রাসায় এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : পরিচালক বললেন মিথ্যা

মরহুম এম. সাইফুর রহমান, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তি পলিটিক্যাল পারসন।

  • সম্পাদকীয়
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 371

➤ভাষা সৈনিক ও স্বাধীন বাংলাদেশের একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তি আমাদের মরহুম সাইফুর রহমান। তাঁর ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
-সুহেল আহমদ-(সম্পাদক) সুরমা দর্পণ।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর, তাঁর ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী, (মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এম.সাইফুর রহমানকে জান্নাতুল ফিরদউস দান করুন, আমিন)।

➤দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তি এই ব্যাক্তি পূণ্য ভূমি সিলেট সহ স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করে আধুনিক রাষ্ট্রের রূপরেখার পথ সহজ করে গেছেন। দলমত নির্বিশেষে আমদের আগামীর এমপি/মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারবেন।

➤সাইফুর রহমানের আত্মজীবনী গ্রন্থ “কিছু কথা কিছু স্মৃতি” ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ বইতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের অকথিত বিষয়সহ বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাজনীতিক সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন।

২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। (ইন্না-লিল্লাহী ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

➤তিনি বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ যিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ ১২ বার বার্ষিক অর্থ বাজেট পেশকারী অর্থমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নেতা ছিলেন যিনি সর্বোচ্চ সময়কালীন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
➤কিংবদন্তি এই ব্যাক্তি ৬ অক্টোবর ১৯৩২ সালে তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার সদর উপজেলার বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল বাছিত এবং মা তালেবুননেসা। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সাইফুর রহমান।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

➤সাইফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং সলিমুল্লাহ হল ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি গ্রেফতার হয়ে এক মাস কারাবরণ করেন। তার জাতীয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে।

১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে রূপান্তরিত হয়। তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরে আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করলে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের প্রায় সব নেতার সাথে তিনি গ্রেফতার হন।

১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশে মুক্ত বাজার সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রবর্তক হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি সবচেয়ে বেশি সময়কাল ধরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং মোট ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

➤সাইফুর রহমান পেশায় একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট ছিলেন। ১৯৬২ সালে পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর হতে একমাত্র সদস্য মনোনীত হন। তিনি ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্যও ছিলেন।

তিনি ‘রহমান, রেহমান অ্যান্ড হক’ নামে একটি নিরীক্ষা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন যা চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কৃতিত্বের স্মারক হয়ে আছে।

১৯৯৪ সালে তিনি স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনের গভর্নর নির্বাচিত হন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ ও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, আইএফএডিতে বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কিংবদন্তির বিদায়ী দিবসে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
লেখক: সুহেল আহমদ, (সম্পাদক) সুরমা দর্পণ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

মরহুম এম. সাইফুর রহমান, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তি পলিটিক্যাল পারসন।

আপডেটের সময়: ১১:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

➤ভাষা সৈনিক ও স্বাধীন বাংলাদেশের একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তি আমাদের মরহুম সাইফুর রহমান। তাঁর ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
-সুহেল আহমদ-(সম্পাদক) সুরমা দর্পণ।

আজ ৫ সেপ্টেম্বর, তাঁর ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী, (মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এম.সাইফুর রহমানকে জান্নাতুল ফিরদউস দান করুন, আমিন)।

➤দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তি এই ব্যাক্তি পূণ্য ভূমি সিলেট সহ স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করে আধুনিক রাষ্ট্রের রূপরেখার পথ সহজ করে গেছেন। দলমত নির্বিশেষে আমদের আগামীর এমপি/মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারবেন।

➤সাইফুর রহমানের আত্মজীবনী গ্রন্থ “কিছু কথা কিছু স্মৃতি” ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ বইতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের অকথিত বিষয়সহ বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাজনীতিক সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন।

২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। (ইন্না-লিল্লাহী ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

➤তিনি বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ যিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ ১২ বার বার্ষিক অর্থ বাজেট পেশকারী অর্থমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নেতা ছিলেন যিনি সর্বোচ্চ সময়কালীন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
➤কিংবদন্তি এই ব্যাক্তি ৬ অক্টোবর ১৯৩২ সালে তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার সদর উপজেলার বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল বাছিত এবং মা তালেবুননেসা। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সাইফুর রহমান।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

➤সাইফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং সলিমুল্লাহ হল ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি গ্রেফতার হয়ে এক মাস কারাবরণ করেন। তার জাতীয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে।

১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে রূপান্তরিত হয়। তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরে আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করলে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের প্রায় সব নেতার সাথে তিনি গ্রেফতার হন।

১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশে মুক্ত বাজার সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রবর্তক হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি সবচেয়ে বেশি সময়কাল ধরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং মোট ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব)

➤সাইফুর রহমান পেশায় একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট ছিলেন। ১৯৬২ সালে পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর হতে একমাত্র সদস্য মনোনীত হন। তিনি ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্যও ছিলেন।

তিনি ‘রহমান, রেহমান অ্যান্ড হক’ নামে একটি নিরীক্ষা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন যা চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কৃতিত্বের স্মারক হয়ে আছে।

১৯৯৪ সালে তিনি স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনের গভর্নর নির্বাচিত হন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ ও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, আইএফএডিতে বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কিংবদন্তির বিদায়ী দিবসে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
লেখক: সুহেল আহমদ, (সম্পাদক) সুরমা দর্পণ।