যশোর সমাজসেবা কার্যালয়ে অফিস চলাকালেই রান্না, উঠছে নানা প্রশ্ন
যশোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি চলছে দুপুরের খাবার রান্না। অফিস সময়ের মধ্যেই উপপরিচালকের কক্ষের পাশের একটি জায়গায় গ্যাসের চুলায় রান্না করা হচ্ছে তরকারি। সেখানে দেখা গেছে রান্নার হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভেতরে নিয়মিত এভাবে রান্নার ব্যবস্থা থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বুধবার দুপুরে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপপরিচালকের কক্ষের পাশের একটি কক্ষসংলগ্ন স্থানে গ্যাসের চুলায় রান্নার কাজ চলছে। চুলার ওপর রান্না হচ্ছে তরকারি। আশপাশে রাখা রয়েছে হাঁড়ি, পাতিলসহ রান্নার প্রয়োজনীয় নানা উপকরণ। তখনও কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী মিলে মেস পদ্ধতিতে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য প্রতিদিন অফিস চলার সময়ই সেখানে রান্না করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই পদ্ধতিতে খাবার রান্না ও খাওয়ার ব্যবস্থা চলে আসছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কার্যালয়ের অফিস সহকারী আসাদুজ্জামান বলেন, নয়জন কর্মচারী মিলে মেসের মাধ্যমে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। প্রতিদিন কার্যালয়েই খাবার রান্না করা হয়।
সরকারি অফিসের কর্মপরিবেশের মধ্যে নিয়মিত রান্নার এমন আয়োজনকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না সচেতন নাগরিক ও এনজিওকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবারের প্রয়োজন থাকলেও সে কারণে সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে রান্নাঘরের মতো পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয়। রান্নার ধোঁয়া, গন্ধ ও আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড দাপ্তরিক পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এনজিওকর্মী বলেন, অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবারের ব্যবস্থা থাকতেই পারে। কিন্তু কর্মঘণ্টার মধ্যে দপ্তরের ভেতরে নিয়মিত রান্না করা সরকারি কার্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে যায় না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য ছোলজার রহমান বলেন, সরকারি অফিসের ভেতরে রান্নাবান্না করে বসতবাড়ির পরিবেশ তৈরি করা ঠিক নয়। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে আসেন। তাই সরকারি দপ্তরের পরিবেশ দাপ্তরিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকা উচিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, কর্মচারীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন থাকলেও তার জন্য সরকারি অফিসের একটি অংশকে রান্নার কাজে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক। একই সঙ্গে অফিস চলাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থা কীভাবে চলেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর, যশোরের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় বলেন, তিনি সম্প্রতি এ কার্যালয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। অফিসের ভেতরে রান্নার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুতই কার্যালয়ের মধ্যে রান্নার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হবে।।




















