Dhaka ০৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবচরে স্থানীয়দের আপত্তিতে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পেরে ফিরে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা স্থানীয় জনসাধারণ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পেরে ফিরে গেছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বদলি হয়ে তিনি শিবচরে পৌঁছালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা তাঁর যোগদান ঠেকিয়ে দেন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগদান ছাড়াই তাঁকে ফিরে যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জের ৬ জনকে অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জে আটক 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সুজন সাহা তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল নাগেশ্বরী ও কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় অবহেলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিবচরের বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাঁর বদলি বাতিলের দাবিতে কয়েক দিন ধরেই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

আরও পড়ুনঃ  শারীরিক অসুস্থতার দেখিয়ে টুঙ্গিপাড়া আওয়ামীলীগ নেতার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও তাঁর যোগদানের বিরোধিতা করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডা. সুজন সাহা কয়েকজন সহকর্মীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে প্রধান ফটকেই বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাঁকে নিরাপদে এলাকা ত্যাগে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন

এ বিষয়ে ডা. সুজন সাহা বলেন,
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমি নিয়ম মেনেই এখানে যোগ দিতে এসেছি। কিন্তু কেন আমাকে বাধা দেওয়া হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না। কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিবচরের মতো জনবহুল উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য একজন গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তার পদায়ন প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন

জনপ্রিয় পোস্ট

শিবচরে স্থানীয়দের আপত্তিতে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পেরে ফিরে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আপডেটের সময়: ০৭:১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা স্থানীয় জনসাধারণ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পেরে ফিরে গেছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বদলি হয়ে তিনি শিবচরে পৌঁছালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা তাঁর যোগদান ঠেকিয়ে দেন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগদান ছাড়াই তাঁকে ফিরে যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  শারীরিক অসুস্থতার দেখিয়ে টুঙ্গিপাড়া আওয়ামীলীগ নেতার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সুজন সাহা তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল নাগেশ্বরী ও কাউখালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় অবহেলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিবচরের বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাঁর বদলি বাতিলের দাবিতে কয়েক দিন ধরেই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ কথা বলা সেই শিক্ষককে পাঠদান থেকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও তাঁর যোগদানের বিরোধিতা করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডা. সুজন সাহা কয়েকজন সহকর্মীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে প্রধান ফটকেই বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাঁকে নিরাপদে এলাকা ত্যাগে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় ব্রেক বিকল হয়ে টোল বুথে বাসের ধাক্কা, আহত টোলকর্মী

এ বিষয়ে ডা. সুজন সাহা বলেন,
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমি নিয়ম মেনেই এখানে যোগ দিতে এসেছি। কিন্তু কেন আমাকে বাধা দেওয়া হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না। কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিবচরের মতো জনবহুল উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য একজন গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তার পদায়ন প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন