Dhaka ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মিরসরাইয়ে ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা জব্দ করা হলো নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। বৌলাই নদীতে নিখোঁজ থাকা নারী,দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি পর লাশ উদ্ধার। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে তাসকিনের নতুন রেকর্ড সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ সাদুল্লাপুর থানা ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রামগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের শুভেচ্ছা বিনিময় এনসিটি পরিচালনা: বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এবার লড়াইতে দেশীয় ‘জোট’। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির অভিযোগে নারী নেত্রীসহ আটক ২

সরকারি অর্থে খাল খনন নাকি টাকা আত্মসাৎ? পানিসারায় চাঞ্চল্য

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হওয়ার পরে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচীর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। আয়ুব হোসেন বলেন, এই কাজ আমরাই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে করিয়েছি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচিতে মাত্র ৪ দিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক এই ৪ দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাতা-কলমে কমিটি থাকলেও এই কাজের সম্পূর্ণ টাকা তুলেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি নিজেই প্রজেক্ট এনে মেম্বারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। কাজ শেষে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস মিলছে না।

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুক পোস্টে নিয়ে বিতর্ক চরমে; তীব্র রোষানলে ব্যবসায়ী জিল্লু

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন যে এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রজেক্টের কাজ। আপনি এলাকার স্বার্থে কাজটা করে দেন। আমি তাঁর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে খালি চেকে সই করে দিয়েছি। পরে শ্রমিকদের বিল দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। আর আমাকে বলেছেন যে, পিআইও অফিসের (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা তিনি কী করেছেন, তা আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি ওখানে কখনও যায়নি। আপনারা প্রজেক্টের সভাপতির সাথে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের অভিযোগ

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনকে তাঁর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।

আরও পড়ুনঃ  জঙ্গল সলিমপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুলিশ সুপার: শিক্ষা, স্বপ্ন ও নিরাপত্তার বার্তা।

আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা। সচিব ফরহাদ হোসেনের বহুবিধ দুর্নীতি সামনে আসার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুট, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

মিরসরাইয়ে ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা জব্দ করা হলো নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

সরকারি অর্থে খাল খনন নাকি টাকা আত্মসাৎ? পানিসারায় চাঞ্চল্য

আপডেটের সময়: ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হওয়ার পরে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচীর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। আয়ুব হোসেন বলেন, এই কাজ আমরাই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে করিয়েছি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচিতে মাত্র ৪ দিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক এই ৪ দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাতা-কলমে কমিটি থাকলেও এই কাজের সম্পূর্ণ টাকা তুলেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি নিজেই প্রজেক্ট এনে মেম্বারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। কাজ শেষে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস মিলছে না।

আরও পড়ুনঃ  মাছবাহী গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন যে এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রজেক্টের কাজ। আপনি এলাকার স্বার্থে কাজটা করে দেন। আমি তাঁর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে খালি চেকে সই করে দিয়েছি। পরে শ্রমিকদের বিল দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। আর আমাকে বলেছেন যে, পিআইও অফিসের (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা তিনি কী করেছেন, তা আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি ওখানে কখনও যায়নি। আপনারা প্রজেক্টের সভাপতির সাথে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়": কোতোয়ালি ওসি

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনকে তাঁর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।

আরও পড়ুনঃ  রামিসা হত্যা মামলায় রায়: মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা। সচিব ফরহাদ হোসেনের বহুবিধ দুর্নীতি সামনে আসার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুট, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।