Dhaka ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ৫: বাবা মা বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবোনা।

কথাগুলো জানিয়েছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)র মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দূর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার।
সে জানে তার মতো দূর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোন হসপিটালে।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সাথে এক সাথে ঈদ করবে।
দূর্ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসা পর গতকাল সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুইদিনে ফাইজাকে দেখতে শত শত মানুষ ভীড় করছেন ফাইজার নানার বাড়ীতে।

এর পূর্বে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব নিয়ে যান।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দূর্ঘটনার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

আজ সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর ফাইজার দাদার বাড়ীতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সাথে। এসময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, শান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কিভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা। লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

পাশ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিঝি বাড়ীর কাতার ফেরত মামুন হোসেন দূর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরনও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না।

তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোন ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনিত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।
একই দূর্ঘটনায় নিহত হন ভাট্রা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীর আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ী চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)।

 

জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ৫: বাবা মা বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

আপডেটের সময়: ০৭:২৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবোনা।

কথাগুলো জানিয়েছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)র মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দূর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার।
সে জানে তার মতো দূর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোন হসপিটালে।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সাথে এক সাথে ঈদ করবে।
দূর্ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসা পর গতকাল সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুইদিনে ফাইজাকে দেখতে শত শত মানুষ ভীড় করছেন ফাইজার নানার বাড়ীতে।

এর পূর্বে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব নিয়ে যান।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দূর্ঘটনার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

আজ সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর ফাইজার দাদার বাড়ীতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সাথে। এসময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, শান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কিভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা। লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল!

পাশ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিঝি বাড়ীর কাতার ফেরত মামুন হোসেন দূর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরনও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না।

তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোন ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনিত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।
একই দূর্ঘটনায় নিহত হন ভাট্রা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীর আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ী চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)।