Dhaka ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ৫: বাবা মা বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবোনা।

কথাগুলো জানিয়েছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)র মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দূর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার।
সে জানে তার মতো দূর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোন হসপিটালে।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সাথে এক সাথে ঈদ করবে।
দূর্ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসা পর গতকাল সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুইদিনে ফাইজাকে দেখতে শত শত মানুষ ভীড় করছেন ফাইজার নানার বাড়ীতে।

এর পূর্বে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব নিয়ে যান।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দূর্ঘটনার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক হয়।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

আজ সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর ফাইজার দাদার বাড়ীতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সাথে। এসময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, শান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কিভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা। লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

পাশ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিঝি বাড়ীর কাতার ফেরত মামুন হোসেন দূর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরনও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না।

তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোন ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনিত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।
একই দূর্ঘটনায় নিহত হন ভাট্রা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীর আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ী চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)।

 

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনা নিহত ৫: বাবা মা বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরেছে ফাইজা

আপডেটের সময়: ০৭:২৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সাথে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাবোনা।

কথাগুলো জানিয়েছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)র মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দূর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার।
সে জানে তার মতো দূর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোন হসপিটালে।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সাথে এক সাথে ঈদ করবে।
দূর্ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসা পর গতকাল সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুইদিনে ফাইজাকে দেখতে শত শত মানুষ ভীড় করছেন ফাইজার নানার বাড়ীতে।

এর পূর্বে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব নিয়ে যান।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দূর্ঘটনার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ী চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক হয়।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

আজ সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর ফাইজার দাদার বাড়ীতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সাথে। এসময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হসপিটালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫/১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, শান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কিভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা। লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

পাশ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিঝি বাড়ীর কাতার ফেরত মামুন হোসেন দূর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরনও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না।

তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোন ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের নিকট বিনিত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।
একই দূর্ঘটনায় নিহত হন ভাট্রা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীর আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ী চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)।