Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ঝিকরগাছায় বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চৌগাছায় এসআরবি’র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২ সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: অর্থমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: অর্থমন্ত্রী।

 

দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। তিনি বলেন, “শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বিনিয়োগের লক্ষ্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। তবে কেবল অর্থ বরাদ্দ নয়, সেই বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের দুর্নীতি ও অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে সর্বাধিক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং মানুষ প্রাথমিক পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা

পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ বরাদ্দ নয়, সেবার মান ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করলেই জনগণ সরকারের বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পাবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ জোর ও মেয়রের আহ্বান
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। চসিক ইতিমধ্যে নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসের মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভায় চমেক হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন।

চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসন।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা।

স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়ন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: অর্থমন্ত্রী।

আপডেটের সময়: ১১:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: অর্থমন্ত্রী।

 

দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। তিনি বলেন, “শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বিনিয়োগের লক্ষ্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। তবে কেবল অর্থ বরাদ্দ নয়, সেই বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের দুর্নীতি ও অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে সর্বাধিক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং মানুষ প্রাথমিক পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা

পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ বরাদ্দ নয়, সেবার মান ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করলেই জনগণ সরকারের বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পাবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ জোর ও মেয়রের আহ্বান
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। চসিক ইতিমধ্যে নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসের মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভায় চমেক হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন।

চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসন।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা।

স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়ন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।