দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের মদন সাকো তাঁতীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী যুবক শৈলেন চন্দ্র রায়কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করেছে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মদন সাকো তাঁতীপাড়া এলাকার মিঠুন চন্দ্র রায়ের শিশু কন্যা দিপিকা রানীকে (ছদ্মনাম, বয়স ৫ বছর ৭ মাস) টেলিভিশন দেখার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় একই এলাকার শৈলেন চন্দ্র রায় (১৯)। শৈলেন ওই গ্রামের শ্রী গুরুচরণের ছেলে।
বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত শৈলেন শিশুটিকে তার শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিকাল ৩টার দিকে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
আহত শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে এবং শারীরিক জখম গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ) রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মিঠুন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শৈলেন চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















