Dhaka ০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় পৃথক তিন স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরায় পৃথক তিন স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি, কলারোয়া ও সদর উপজেলার পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কলারোয়ার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের একটি খাল থেকে মো. আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে আশাশুনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুর রহিম মালি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  স্কুল হোস্টেলে শিক্ষার্থীর মৃত্যু,অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনার রশিদ মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিকভাবে অসুস্থ আব্দুর রহিম অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশের ডোবা থেকে মেহেদী (৩০) নামে এক মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা খাতুন সকালে ময়লা ফেলতে গিয়ে ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলছেন, আমার ছেলে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাতে না ফেরায় ভেবেছিলাম পার্শ্ববর্তী আলাইপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে গেছে। সকালে খবর পাই, তাকে হত্যা করে জালালাবাদ এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিজের প্রচেষ্টায় ঝিকরগাছার গর্ব জুঁই, এবার বিকেএসপিতে

এদিকে, সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকায় অমিত হাসান নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পৃথক তিন স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময়: ০৪:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরায় পৃথক তিন স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি, কলারোয়া ও সদর উপজেলার পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কলারোয়ার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের একটি খাল থেকে মো. আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে আশাশুনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুর রহিম মালি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পানিসারা ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে,‘কিছুই জানি না’ দাবি ফরহাদ হোসেনের

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনার রশিদ মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিকভাবে অসুস্থ আব্দুর রহিম অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশের ডোবা থেকে মেহেদী (৩০) নামে এক মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা খাতুন সকালে ময়লা ফেলতে গিয়ে ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন হাজী মোঃ সবুজ আলম।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলছেন, আমার ছেলে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাতে না ফেরায় ভেবেছিলাম পার্শ্ববর্তী আলাইপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে গেছে। সকালে খবর পাই, তাকে হত্যা করে জালালাবাদ এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  স্কুল হোস্টেলে শিক্ষার্থীর মৃত্যু,অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এদিকে, সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকায় অমিত হাসান নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।