Dhaka ১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার কোমরপুর প্রাইমারী স্কুলের দপ্তরী ছয় মাস ধরে শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত

কোমরপুর প্রাইমারী স্কুলের দপ্তরী ছয় মাস ধরে শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নিরাপত্তা প্রহরী কামরুল ইসলামকে প্রায় ছয় মাস ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়টিতে দপ্তরির পদ কার্যত শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক এসে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হাতে বিদ্যালয়ের চাবি তুলে দেন। পরে ওই শিক্ষার্থীসহ অন্যরা একে একে শ্রেণিকক্ষগুলো খুলে দেয়। বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়ও শিক্ষক-কর্মচারীর অভাবের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মৌখিক নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নওগাঁর নিয়ামতপুরে ১২ বোতল স্ক্যাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, গ্রামবাসীর একটি অংশ কামরুল ইসলামকে এখানে চাকরি করতে দিতে চায় না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে তাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।

অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়টি ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দপ্তরি না থাকায় বিদ্যালয় খোলা ও বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য সহায়ক কাজ পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পাটকেলঘাটায় ৪ বোতল কোরেক্স নামক মাদক সহ ২ জন গ্রেফতার।

একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষকদেরই অনেক সময় দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে পাঠদান কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মচারীকে বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শিক্ষা অফিসে রাখা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত অভিযোগের কোনো তদন্ত করা হয়নি। তৎকালীন শিক্ষা অফিসার গনি স্যার ও ইউএনও স্যারের নির্দেশে কামরুল ইসলামকে এখানে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফুলবাড়ীতে অবৈধ বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান, আটক ১

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জেনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি- তবে তিনি কামরুল ইসলামকে উপজেলা অফিসে সংযুক্তের কথা স্বীকার করেননি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকের দাবি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে দ্রুত নিজ কর্মস্থল কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরির পদ কার্যত শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হলে শিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

সাতক্ষীরার কোমরপুর প্রাইমারী স্কুলের দপ্তরী ছয় মাস ধরে শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত

আপডেটের সময়: ০৯:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কোমরপুর প্রাইমারী স্কুলের দপ্তরী ছয় মাস ধরে শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নিরাপত্তা প্রহরী কামরুল ইসলামকে প্রায় ছয় মাস ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়টিতে দপ্তরির পদ কার্যত শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক এসে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হাতে বিদ্যালয়ের চাবি তুলে দেন। পরে ওই শিক্ষার্থীসহ অন্যরা একে একে শ্রেণিকক্ষগুলো খুলে দেয়। বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়ও শিক্ষক-কর্মচারীর অভাবের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মৌখিক নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নওগাঁর নিয়ামতপুরে ১২ বোতল স্ক্যাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, গ্রামবাসীর একটি অংশ কামরুল ইসলামকে এখানে চাকরি করতে দিতে চায় না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে তাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।

অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়টি ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দপ্তরি না থাকায় বিদ্যালয় খোলা ও বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য সহায়ক কাজ পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষকদেরই অনেক সময় দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে পাঠদান কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মচারীকে বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শিক্ষা অফিসে রাখা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত অভিযোগের কোনো তদন্ত করা হয়নি। তৎকালীন শিক্ষা অফিসার গনি স্যার ও ইউএনও স্যারের নির্দেশে কামরুল ইসলামকে এখানে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পীর ‘সেজে’ কবরস্থানে আস্তানা গড়লেন হত্যা মামলার আসামি, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জেনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি- তবে তিনি কামরুল ইসলামকে উপজেলা অফিসে সংযুক্তের কথা স্বীকার করেননি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকের দাবি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে দ্রুত নিজ কর্মস্থল কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরির পদ কার্যত শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হলে শিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।