Dhaka ১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক নারী-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগআঁচড়ায় ৫ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপন বীরগঞ্জে শুরু হাম-রুবেলা টিকা, সুরক্ষায় শিশুরা কুশুলিয়া পুলিন বাবুর হাটখোলায় শান্তিপূর্ণভাবে ডিজেল বিক্রি সাতক্ষীরায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু পুকুরে বিষ দিয়ে ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধন প্রতিবন্ধী রফিকুলের পাশে সহায়তায় কামিল মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃআনিছুর রহমান লিটন।

জকিগঞ্জের মরিচা সপ্রাবি-এর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ!

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অভিভাবকদের নানান অভিযোগ। এ ব্যাপারে গত ৫ অক্টোবর এলাকাবাসী জেলা শিক্ষা অফিসে একটি লিখত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান যে শিক্ষকবৃন্দ রয়েছেন তাহাদের মধ্যে প্রায় সকল শিক্ষক মরিচা গ্রামের বাসিন্দা। এমনকি একই পরিবারের ২ জন শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে। উল্লেখ রয়েছে, বিগত সময়ে শিক্ষকদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের কারণে উপজেলার মধ্যে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমান শিক্ষকদের অবহেলিত দায়িত্ব পালনের কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন একদম বেহাল অবস্থায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারপরেও শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর মরিচা, কাজীরপাতন, রায়গ্রাম ও বাল্লাহ গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একপর্যায়ে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে দেওয়া বন্ধ করে দেন।পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার

এব্যাপারে বাল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, মরিচা গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুল মুকিত, আব্দুর রশিদ, কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে এসে বাসা বাড়ির মত তাদের ছেলেমেয়ে লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করেন। বেশিরভাগ সময় অফিসে বসে চা-চক্রে আর খুশগল্পের মাধ্যমে সময় পার করে দিনের পর দিন কাটান। পাক-প্রাথমিকের সকল শিশু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সকল সরঞ্জামাদি তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা নিয়ে শিক্ষকদের কোন গুরুত্ব নেই, এমনকি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকরাও আসেন না। শিক্ষার মানোন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকদের অপসারণের দাবি জানান। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষী শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর) থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া শিক্ষকরা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে নানান প্রোপাগান্ডা ছাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুনঃ  ৪০৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক কারবারি আটক

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম লেইছ বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে এলাকায় উত্তেজিত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনে স্থানীয়দের দায়েরকৃত অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন। আশাকরি আগামীকাল থেকে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে দিবেন এবং শিক্ষকরা যথাযথ নিয়মে পাঠদান চালিয়ে যাবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না আাসা পর্যন্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া স্বার্থে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমনে এলাকায় পরিবেশ শান্ত থাকলেও দ্রুত বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহনে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আরও পড়ুনঃ  ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই স্টেশনকে জরিমানা

জকিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে এলাকার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার স্বার্থে এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

জকিগঞ্জের মরিচা সপ্রাবি-এর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ!

আপডেটের সময়: ১২:৩১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অভিভাবকদের নানান অভিযোগ। এ ব্যাপারে গত ৫ অক্টোবর এলাকাবাসী জেলা শিক্ষা অফিসে একটি লিখত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান যে শিক্ষকবৃন্দ রয়েছেন তাহাদের মধ্যে প্রায় সকল শিক্ষক মরিচা গ্রামের বাসিন্দা। এমনকি একই পরিবারের ২ জন শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে। উল্লেখ রয়েছে, বিগত সময়ে শিক্ষকদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের কারণে উপজেলার মধ্যে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমান শিক্ষকদের অবহেলিত দায়িত্ব পালনের কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন একদম বেহাল অবস্থায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারপরেও শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর মরিচা, কাজীরপাতন, রায়গ্রাম ও বাল্লাহ গ্রামের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একপর্যায়ে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে দেওয়া বন্ধ করে দেন।পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার

এব্যাপারে বাল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, মরিচা গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুল মুকিত, আব্দুর রশিদ, কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে এসে বাসা বাড়ির মত তাদের ছেলেমেয়ে লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করেন। বেশিরভাগ সময় অফিসে বসে চা-চক্রে আর খুশগল্পের মাধ্যমে সময় পার করে দিনের পর দিন কাটান। পাক-প্রাথমিকের সকল শিশু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সকল সরঞ্জামাদি তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা নিয়ে শিক্ষকদের কোন গুরুত্ব নেই, এমনকি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকরাও আসেন না। শিক্ষার মানোন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকদের অপসারণের দাবি জানান। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষী শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর) থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া শিক্ষকরা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে নানান প্রোপাগান্ডা ছাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম লেইছ বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে এলাকায় উত্তেজিত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনে স্থানীয়দের দায়েরকৃত অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন। আশাকরি আগামীকাল থেকে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে দিবেন এবং শিক্ষকরা যথাযথ নিয়মে পাঠদান চালিয়ে যাবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না আাসা পর্যন্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া স্বার্থে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমনে এলাকায় পরিবেশ শান্ত থাকলেও দ্রুত বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহনে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

জকিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে এলাকার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার স্বার্থে এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।