তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ১৯-১-২০২৬ ইং সোমবার দুপুরে কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তীব্র ভাঙনকবলিত অঞ্চল ঘুরে দেখেন তারা।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর ঘুরে দেখেন পরিবেশ উপদেষ্টা ও চীনের রাষ্ট্রদূত। নদীর বিস্তৃতি, ভাঙনের প্রকৃতি, চরাঞ্চলের পরিবেশ ও নদীশাসনের বর্তমান চিত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিত অবহিত করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
নৌভ্রমণের সময় দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা, পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এসময় তারা নদীতীরের ভাঙনগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। ভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জীবন-জীবিকার সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবার দুর্গতি ও দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. করিম উদ্দিন বলেন, “প্রতি বছর নদীভাঙনে ঘর-জমি হারিয়ে আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। ত্রাণ নয়, আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।” স্থানীয় নারী প্রতিনিধি আয়েশা বেগমের ভাষ্যে, “চীনের রাষ্ট্রদূত আমাদের কথা শুনেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ভাঙনগ্রস্তদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দুর্দশা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন রোধে একটি সামগ্রিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকার পরিবেশ ও অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে তিস্তা নদীর ভাঙনে কাউনিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের অভাবে প্রতিবছর বন্যার সময় এ অঞ্চলে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছায়।




















