Dhaka ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

পূর্ব দিগন্ত বার্তা

অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক
জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি তা মনে নেই’

আপডেটের সময়: ০৯:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
অসহায় জনমদুঃখী রাজিয়ার কষ্টমাখা জীবনের রুটিন কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম-যাঁর জীবন এখন দারিদ্র্য ও চরম অসহায়ত্বের এক জীবন্ত গল্প। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই জনমদুঃখী বিধবা নারী। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরটা এখন আর সায় দেয় না; তবুও বাঁচার তাগিদে লাঠিতে ভর করে কয়েক কদম এগোনোই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কড় সংগ্রাম।

বহু বছর আগে স্বামী শাকেন মৃধা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই থেকে রিজিয়া বেগম যেন এক কূলহীন সাগরের বাসিন্দা। নেই কোনো সন্তান, নেই নিজের জমিও। বর্তমানে প্রতিবেশীর একটি ছাগল রাখার ঘরের জীর্ণ বারান্দায় মাথা গুঁজে দিন কাটছে তাঁর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত-প্রকৃতির কোনো তান্ডবই যেন তাঁর এই কষ্টমাখা জীবনের রুটিন বদলাতে পারেনি।
সরকারি সহায্য বলতে জোটেছে সামান্য বয়স্ক ভাতা। তিন মাস অন্তর যে টাকা পান, তা দিয়ে হয় কোনমতে দুই বেলার খাবার, নয়তো রোগাত্রান্ত শরীরের ওষুধ। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে পেটে খিল দিতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে বাদ দিতে হয় জরুরি পথ্য। অনিশ্চয়তা আর শূন্যতার মাঝেই কাটছে তাঁর প্রতিটি প্রহর।
পবিত্র রমজান মাসেও মেলেনি কোনো স্বস্তি। ইফতার কিংবা সাহরিতে নেই ভালো কোনো খাবারের আয়োাজন। অনেক সময় শুধু পান্তাভাত ও আলু ভর্তা খেয়েই রোজা রাখছেন তিনি। ঝাপসা চোখের পানি মুছে রিজিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই। আল্লাহ্ জানেন আর কতদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হবে।
রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবিক ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-এই সহায়-সম্বলহীন ও অসহায় নারীর দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার। কারও সাহায্য ও সহানুভূতিই হয়তো এই নিঃস্ব বৃদ্ধার শেষ জীবনের দিনগুলোতে একটু শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, রিজিয়া বেগমের এই করুণ ও দুরাবস্থা দেখলে পাষাণ হৃদয়ও কষ্ট পায়। থাকার মতো ঘর নেই, পেটে অন্ন নেই। এই বয়সে ভিক্ষা করার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
আরও পড়ুন
অসহায় জনমদুঃখী কতদিন যে এক টুকরো মাংস খাইনি, তা মনে নেই’
ই-পেপার
আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত