Dhaka ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দু’দিনে সুন্দরবন থেকে সাতক্ষীরার ২২ জেলে অপহরণ

দু’দিনে সুন্দরবন থেকে সাতক্ষীরার ২২ জেলে অপহরণ

 

গত দু’দিনে সুন্দরবন থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ডন ও ‘নানাভাই বাহিনী’ সাতক্ষীরার ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে। চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদী, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃত জেলেরা হলেন, সিংহড়তলীর মোমনি ফকির (৩০), হরিনগরের মুর্শিদ আলম(৪০), ইসমাইল শেখ (২৮) ও আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগরের আব্দুস সামাদ(৪০), কুলতলির মনোহর সরকার(৩৪), চুনকুড়ির আল মামুন(১৬), হুমায়ুন(২৬), মনিরুল(২৫), রবিউল(৩০) ও সঞ্জয়(৫২), বড় ভেটখালীর আল আমিন(৩৭, শাহাজান(৫০) ও আবুল বাসার বাবু(৩৫), কদমতলার রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার আব্দুস সালাম(৫৫) এবং ধুমঘাটের আবুল কালাম(৪০)।

অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও এখনো ১৭ জেলেকে জলদস্যুরা জিম্মি করে রেখেছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আত্মসাৎ চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২।

ছেড়ে দেওয়া জেলেরা হলেন, কুলতলির ধ্রুব সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলার হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগরের সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইউনুস আলী(২৬)।

অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা এবং ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, গত চার থেকে পাঁচদিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। এক পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় মুক্তিপণের দাবিতে ‘আলিম-ডন ওরফে আলিফ বাহিনী’ এবং ‘নানাভাই বাহিনীর’ সদস্যরা তাদের অন্তত ২৮ থেকে ৩০ সহযোগীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মধ্যে ২২ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক পাপুলের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি জেলেদের স্বজনরা জানান, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কোনো অঙ্ক জানায়নি। হয়তো মোবাইলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে।

এদিকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, একেবারে লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে নৌ-পথে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট দূরত্বে থেকে তাদের কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে নানাভাই ও আলিম বাহিনীর সদস্যরা।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাবের অভিযানে ২ আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে জলদস্যুরা একেবারে লোকালয়ের পার্শ্ববর্তী অংশ থেকে জেলেদের তুলে নিচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়ে এর মধ্যে তারা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের শিকার কোনো জেলে পরিবারের সদস্যরা এখনো কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, লোকমুখে বিষয়টি জানার পর এর মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান।

জনপ্রিয় পোস্ট

দু’দিনে সুন্দরবন থেকে সাতক্ষীরার ২২ জেলে অপহরণ

আপডেটের সময়: ০২:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দু’দিনে সুন্দরবন থেকে সাতক্ষীরার ২২ জেলে অপহরণ

 

গত দু’দিনে সুন্দরবন থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ডন ও ‘নানাভাই বাহিনী’ সাতক্ষীরার ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে। চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদী, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃত জেলেরা হলেন, সিংহড়তলীর মোমনি ফকির (৩০), হরিনগরের মুর্শিদ আলম(৪০), ইসমাইল শেখ (২৮) ও আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগরের আব্দুস সামাদ(৪০), কুলতলির মনোহর সরকার(৩৪), চুনকুড়ির আল মামুন(১৬), হুমায়ুন(২৬), মনিরুল(২৫), রবিউল(৩০) ও সঞ্জয়(৫২), বড় ভেটখালীর আল আমিন(৩৭, শাহাজান(৫০) ও আবুল বাসার বাবু(৩৫), কদমতলার রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার আব্দুস সালাম(৫৫) এবং ধুমঘাটের আবুল কালাম(৪০)।

অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও এখনো ১৭ জেলেকে জলদস্যুরা জিম্মি করে রেখেছে।

আরও পড়ুনঃ  হাসপাতালের কোয়ার্টারে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে নাকাল রোগী-পথচারী

ছেড়ে দেওয়া জেলেরা হলেন, কুলতলির ধ্রুব সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলার হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগরের সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইউনুস আলী(২৬)।

অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা এবং ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, গত চার থেকে পাঁচদিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। এক পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় মুক্তিপণের দাবিতে ‘আলিম-ডন ওরফে আলিফ বাহিনী’ এবং ‘নানাভাই বাহিনীর’ সদস্যরা তাদের অন্তত ২৮ থেকে ৩০ সহযোগীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মধ্যে ২২ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  এইচপির কোচিং প্যানেলে আবদুর রাজ্জাক!

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি জেলেদের স্বজনরা জানান, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কোনো অঙ্ক জানায়নি। হয়তো মোবাইলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে।

এদিকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, একেবারে লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে নৌ-পথে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট দূরত্বে থেকে তাদের কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে নানাভাই ও আলিম বাহিনীর সদস্যরা।

আরও পড়ুনঃ  সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে জলদস্যুরা একেবারে লোকালয়ের পার্শ্ববর্তী অংশ থেকে জেলেদের তুলে নিচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়ে এর মধ্যে তারা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের শিকার কোনো জেলে পরিবারের সদস্যরা এখনো কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, লোকমুখে বিষয়টি জানার পর এর মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান।