ঝিকরগাছায় বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব, গুরুতর আহত ৩ বছরের শিশু
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। দলবদ্ধ কুকুরের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন বছরের শিশু সাওবান। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার কয়েকটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলোনীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাহবুবের তিন বছরের ছেলে সাওবান বাড়ির সামনে রাস্তায় বের হলে দলবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর হামলা চালায়। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়।
পরে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় খুলনার রয়েল মোড় এলাকার আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এ পর্যন্ত শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকেরা কয়েকটি অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারটি চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঝিকরগাছা পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের রাস্তাঘাটে দলবদ্ধভাবে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব কুকুর মানুষ ছাড়াও গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগির ওপর হামলা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কুকুরের ভয়ে ছোট শিশুরা একা রাস্তায় বের হতে পারছে না। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত নিয়েও উদ্বিগ্ন। ভোর ও সন্ধ্যার পর বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেশি থাকায় প্রবীণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাংশু বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন করা সম্ভব নয়। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি শিশুর ওপর হামলার পর নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।




















