সংবাদ প্রকাশের জেরে শার্শায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভ
যশোরের শার্শায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক আতিকুজ্জামানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সমাজ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত আতিকুজ্জামান দৈনিক যশোর বার্তা ও দৈনিক বাংলাদেশ রয়টার্স-এর শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি।
আতিকুজ্জামান জানান, তিনি শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে আরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তার ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আরিকুল ইসলাম শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন,”সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, দিবালোকে একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় শার্শায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।




















