Dhaka ০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সরকারি অর্থে খাল খনন নাকি টাকা আত্মসাৎ? পানিসারায় চাঞ্চল্য

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হওয়ার পরে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচীর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। আয়ুব হোসেন বলেন, এই কাজ আমরাই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে করিয়েছি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচিতে মাত্র ৪ দিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক এই ৪ দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাতা-কলমে কমিটি থাকলেও এই কাজের সম্পূর্ণ টাকা তুলেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি নিজেই প্রজেক্ট এনে মেম্বারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। কাজ শেষে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস মিলছে না।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন যে এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রজেক্টের কাজ। আপনি এলাকার স্বার্থে কাজটা করে দেন। আমি তাঁর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে খালি চেকে সই করে দিয়েছি। পরে শ্রমিকদের বিল দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। আর আমাকে বলেছেন যে, পিআইও অফিসের (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা তিনি কী করেছেন, তা আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি ওখানে কখনও যায়নি। আপনারা প্রজেক্টের সভাপতির সাথে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনকে তাঁর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা। সচিব ফরহাদ হোসেনের বহুবিধ দুর্নীতি সামনে আসার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুট, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

সরকারি অর্থে খাল খনন নাকি টাকা আত্মসাৎ? পানিসারায় চাঞ্চল্য

আপডেটের সময়: ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হওয়ার পরে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচীর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। আয়ুব হোসেন বলেন, এই কাজ আমরাই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে করিয়েছি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচিতে মাত্র ৪ দিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক এই ৪ দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাতা-কলমে কমিটি থাকলেও এই কাজের সম্পূর্ণ টাকা তুলেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি নিজেই প্রজেক্ট এনে মেম্বারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। কাজ শেষে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস মিলছে না।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন যে এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রজেক্টের কাজ। আপনি এলাকার স্বার্থে কাজটা করে দেন। আমি তাঁর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে খালি চেকে সই করে দিয়েছি। পরে শ্রমিকদের বিল দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। আর আমাকে বলেছেন যে, পিআইও অফিসের (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা তিনি কী করেছেন, তা আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি ওখানে কখনও যায়নি। আপনারা প্রজেক্টের সভাপতির সাথে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় ফাজিল (স্নাতক) পরীক্ষা নকল মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনকে তাঁর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা। সচিব ফরহাদ হোসেনের বহুবিধ দুর্নীতি সামনে আসার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুট, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।