Dhaka ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল গ্রেফতার

সরকারি খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

সরকারি খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

সরকারি খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া–অমরাবতী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে এলাকায় চরম আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের পূর্ব পাশে সম্প্রতি আরসিসি পিলার স্থাপন করে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের জন্য বেস তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, যেখানে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অন্তত ১১ ফুট অংশ সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত। অথচ কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই সেখানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান নির্বাচনী ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে এই কাজ শুরু করা হয়। রাস্তার পাশঘেঁষা ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত হলেও যথাযথ যাচাই ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সঙ্গে সরকারি জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সচেতন মহলে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  Mole's Kitchen!! স্বাদের জগতে আবারো স্বাগতম!!!

 

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“মসজিদের বাউন্ডারি প্রাচীর দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। যেখানে প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে সেখানে খাস জমি আছে বলে শুনেছি। তবে মাপজোকের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে, মাপজোকের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত স্থানীয় মতিন আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার করা মাপজোক অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে প্রায় ১১ ফুট অতিরিক্ত জায়গা অন্তর্ভুক্ত করে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সহপাঠীকে বাঁচাতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

 

জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ আজিজুল মোল্যা। মসজিদের জন্য সভাপতির পিতা প্রয়াত আব্দুল খালেক সরদার জীবদ্দশায় প্রায় দশ কাঠা জমি দান করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, উক্ত দানকৃত জমির বাইরে মসজিদের জন্য আর কোনো জমি দান করা হয়নি।
এ অবস্থায় সরকারি খাস জমি ব্যবহার করে মসজিদের বাউন্ডারি নির্মাণের অভিযোগ ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আরও জানা যায়, আলোচিত খাস জমিটি মাধবকাটি ও যোগরাজপুর মৌজার সংযোগস্থলে অবস্থিত। কয়েক বছর আগে সেখানে সরকারি সীমানা নির্দেশক পিন ছিল, যা পরবর্তীতে চুরি হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। সীমানা চিহ্ন না থাকায় জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হোক। সরকারি খাস জমি জনস্বার্থের সম্পদ হওয়ায় এর ব্যবহার ও সংরক্ষণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় ১কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

 

ই-পেপার

ফেজবুক

জনপ্রিয় পোস্ট

সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি

সরকারি খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:২৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া–অমরাবতী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদকে ঘিরে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে এলাকায় চরম আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের পূর্ব পাশে সম্প্রতি আরসিসি পিলার স্থাপন করে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের জন্য বেস তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, যেখানে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অন্তত ১১ ফুট অংশ সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত। অথচ কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই সেখানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান নির্বাচনী ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে এই কাজ শুরু করা হয়। রাস্তার পাশঘেঁষা ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত হলেও যথাযথ যাচাই ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সঙ্গে সরকারি জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সচেতন মহলে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

 

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“মসজিদের বাউন্ডারি প্রাচীর দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। যেখানে প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে সেখানে খাস জমি আছে বলে শুনেছি। তবে মাপজোকের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে, মাপজোকের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত স্থানীয় মতিন আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার করা মাপজোক অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে প্রায় ১১ ফুট অতিরিক্ত জায়গা অন্তর্ভুক্ত করে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সহপাঠীকে বাঁচাতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

 

জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ আজিজুল মোল্যা। মসজিদের জন্য সভাপতির পিতা প্রয়াত আব্দুল খালেক সরদার জীবদ্দশায় প্রায় দশ কাঠা জমি দান করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, উক্ত দানকৃত জমির বাইরে মসজিদের জন্য আর কোনো জমি দান করা হয়নি।
এ অবস্থায় সরকারি খাস জমি ব্যবহার করে মসজিদের বাউন্ডারি নির্মাণের অভিযোগ ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আরও জানা যায়, আলোচিত খাস জমিটি মাধবকাটি ও যোগরাজপুর মৌজার সংযোগস্থলে অবস্থিত। কয়েক বছর আগে সেখানে সরকারি সীমানা নির্দেশক পিন ছিল, যা পরবর্তীতে চুরি হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। সীমানা চিহ্ন না থাকায় জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হোক। সরকারি খাস জমি জনস্বার্থের সম্পদ হওয়ায় এর ব্যবহার ও সংরক্ষণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তারা।

 

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

 

ই-পেপার

ফেজবুক