Dhaka ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা রেজাউল ও মজনু বহিষ্কার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলারোয়ায় চলছে প্রভাবশালীদের ভবন নির্মাণ সাতক্ষীরায় ১০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির মিলন মেলা। রামগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর পুড়ে ছাই স্কুল ফিডিংয়ে আবারও বিতর্ক: অর্ধসিদ্ধ ও বিষ্ঠাযুক্ত ডিম সরবরাহের অভিযোগ সীমান্তের হতদরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে বিজিবির মানবিক সহায়তা ঢাকায় মেনএনগেজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের এজিএম অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষেই অবসরের ভাবনায় কুর্তোয়া! জেলা পুলিশের মেগা অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক।

ঋণের দায়ে দিশেহারা অসুস্থ শিক্ষক; দুই বছরেও মেলেনি অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা

নাকালিয়া সাড়াসিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয় পাবনার বেড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য একজন শিক্ষক ছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম, যিনি জীবন যুদ্ধের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ সম্বল ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে প্রাপ্য অর্থ আজও হাতে পাননি। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক আনোয়ারুল ইসলাম, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। সন্তানরা সবাই শিক্ষিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ভালো কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়ায় সংসারের ভার এখনো বহন করতে হয় বয় বৃদ্ধ এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে।

আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবসর গ্রহণের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০২৩ সালের মে মাসে তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে করতে হয় জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি। এরপর চোখের সমস্যা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে চোখের অপারেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এসব চিকিৎসায় তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  কলারোয়ায় দুই ডায়াগনস্টিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সরেজমিনে জানা যায়, চিকিৎসার বিশাল এই ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ হয়েছে, এখন কেবল ঋণের বোঝা মাথার ওপর। কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাপ্য টাকা পেলে অন্তত এই ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম। জীবনের শেষবেলায় এসে চিকিৎসার টাকা জোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি তার শারীরিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দ্রুত অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানান। তবে ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো কোনো ফল পাননি তিনি। এমন কি কবে এই অর্থ পাবেন তারও কোন হদিস নেই।
বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে প্রায় শয্যাশায়ী।

আরও পড়ুনঃ  জোড়া অভিযান: বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল ও স্ক্র্যাপ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২।

ভুক্তভোগী এই শিক্ষকের সহকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষক সারাজীবন দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার টাকার জন্য এমন কষ্ট পাবেন তা মেনে নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় আনোয়ারুল ইসলামের কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির মিলন মেলা।

বেড়া উপজেলার একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ইংরেজি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম কাতর কণ্ঠে বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার পাওনা টাকাটা পেয়ে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে শান্তিতে মরতে চাই।”

সাতক্ষীরা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা রেজাউল ও মজনু বহিষ্কার

ঋণের দায়ে দিশেহারা অসুস্থ শিক্ষক; দুই বছরেও মেলেনি অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা

আপডেটের সময়: ১২:২৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নাকালিয়া সাড়াসিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয় পাবনার বেড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য একজন শিক্ষক ছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম, যিনি জীবন যুদ্ধের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ সম্বল ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে প্রাপ্য অর্থ আজও হাতে পাননি। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক আনোয়ারুল ইসলাম, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। সন্তানরা সবাই শিক্ষিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ভালো কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়ায় সংসারের ভার এখনো বহন করতে হয় বয় বৃদ্ধ এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে।

আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবসর গ্রহণের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০২৩ সালের মে মাসে তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে করতে হয় জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি। এরপর চোখের সমস্যা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে চোখের অপারেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এসব চিকিৎসায় তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  এশিয়া ওয়ান সামিটে বাংলাদেশের গৌরব: গ্রেটেস্ট লিডার নির্বাচিত সাকিফ শামীম, গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল

সরেজমিনে জানা যায়, চিকিৎসার বিশাল এই ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ হয়েছে, এখন কেবল ঋণের বোঝা মাথার ওপর। কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাপ্য টাকা পেলে অন্তত এই ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম। জীবনের শেষবেলায় এসে চিকিৎসার টাকা জোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি তার শারীরিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দ্রুত অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানান। তবে ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো কোনো ফল পাননি তিনি। এমন কি কবে এই অর্থ পাবেন তারও কোন হদিস নেই।
বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে প্রায় শয্যাশায়ী।

আরও পড়ুনঃ  হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির মিলন মেলা।

ভুক্তভোগী এই শিক্ষকের সহকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষক সারাজীবন দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার টাকার জন্য এমন কষ্ট পাবেন তা মেনে নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় আনোয়ারুল ইসলামের কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা রেজাউল ও মজনু বহিষ্কার

বেড়া উপজেলার একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ইংরেজি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম কাতর কণ্ঠে বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার পাওনা টাকাটা পেয়ে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে শান্তিতে মরতে চাই।”