আপডেটের সময়:
০৯:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
9
নওগাঁ মান্দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
নওগাঁর মান্দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) অধীনে ফকিন্নি নদীর নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও হেরিং বোন বন্ড নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের মান নিয়ে চরম গাফিলতি এবং প্রকৌশল নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চকহরিনারায়ণ গ্রামের আনসার মেম্বারের বাড়ি থেকে বাকসাবাড়ি এলাকার লুৎফরের বাড়ি পর্যন্ত ৬৭৬ মিটার নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ফেনী জেলার সেতু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে বালুর বেড দেওয়ার কথা, সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ভরাট মাটি। হেরিং বোন বন্ডের ব্রিক ফ্ল্যাট সলিংয়ে ইটের মাঝখানে ১ সেন্টিমিটার ফাঁক থাকার কথা থাকলেও অনেক স্থানে ১ থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রেখে ইট বসানো হয়েছে। এমনকি সলিংয়ের নিচে বালি না দিয়েই সরাসরি মাটির ওপর ইট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদুল হক, জাহাঙ্গীর আলম ও রুস্তম আলী অভিযোগ করে বলেন, সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে এমন নিম্নমানের কাজ আমরা আগে দেখিনি। বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, ইটের মানও খুব খারাপ। ঠিকাদারকে অনিয়মের কথা বললে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়। এভাবে কাজ চললে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা ও বাঁধ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পে যদি শুরু থেকেই অনিয়ম হয়, তাহলে প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কী করছেন? কাজের মান যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাজ বাস্তবায়নকারী সাব-ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, আমরা অফিসের মেজারমেন্ট চার্ট অনুযায়ী কাজ করেছি। যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু ইটের ফাঁক তৈরি হতে পারে। আমি সাইটে না থাকার সুযোগে স্থানীয় মিস্ত্রিরা কিছু জায়গায় ফাঁকা করে ইট বসিয়েছে। তারপরও বিষয়টি অফিসের সঙ্গে আলোচনা করলে ভালো হবে। অফিস যেভাবে বলেছে সেভাবেই কাজ করেছি
এ বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট ও বালুর পরিবর্তে ব্যবহৃত মাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও কেন তার এ ধরনের কাজ করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।