Dhaka ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল গ্রেফতার

সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। এদিকে, মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে পরিবারে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাতে কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১/১৪০। মামলাটি পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এজাহারে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) এবং নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব সরকার তার বাবার সঙ্গে মাছের ঘেরে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে তার বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন বুধবার (১ জুলাই) ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার ঘেরে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় ১কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সঞ্জিব সরকার গোপাল চন্দ্র সরকার ও মায়া রানী সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল এবং ১০ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ভাবে সঞ্জিব সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি

সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০৮:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যার মামলা দায়ের এজাহারভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। এদিকে, মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে পরিবারে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাতে কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১/১৪০। মামলাটি পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এজাহারে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) এবং নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নেপাল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইমদাদুল হক ইমদাদ

থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব সরকার তার বাবার সঙ্গে মাছের ঘেরে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে তার বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন বুধবার (১ জুলাই) ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার ঘেরে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

আরও পড়ুনঃ  দেবীচরণ দুর্গা মন্দিরের ভাঙা প্রবেশপথে জিও-ব্যাগ ও ভিডি বালু 

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সঞ্জিব সরকার গোপাল চন্দ্র সরকার ও মায়া রানী সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল এবং ১০ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ভাবে সঞ্জিব সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।