Dhaka ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল গ্রেফতার

ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ নিধন, শিবচরের নদ-নদীতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে মাছ শিকারের ভয়ংকর প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ ও বিল পদ্মা এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে রেণু-পোনা, মাছের ডিমসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে মারা যাচ্ছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদীতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

এসব চক্র নৌকায় করে ইনভার্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বহন করে পানিতে বৈদ্যুতিক তার ফেলে শক দেয়। এর ফলে ওই এলাকার সব ধরনের ছোট-বড় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পানির ওপরে ভেসে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা রাতভর এই নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে ভোরের আগেই ধরা মাছ মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দ্রুত সটকে পড়ে। প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি মাছ ধরা হচ্ছে, যার বেশিরভাগই রেণু-পোনা ও ছোট আকারের মাছ।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেড জালসহ প্রচলিত জালে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির বহু মাছ এই অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী একটি মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযান অনেক ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় ১কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন শিবচরের সচেতন মহল।

জনপ্রিয় পোস্ট

সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি

ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ নিধন, শিবচরের নদ-নদীতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়

আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে মাছ শিকারের ভয়ংকর প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ ও বিল পদ্মা এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে রেণু-পোনা, মাছের ডিমসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে মারা যাচ্ছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদীতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাশিয়ানীতে র‌্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার

এসব চক্র নৌকায় করে ইনভার্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বহন করে পানিতে বৈদ্যুতিক তার ফেলে শক দেয়। এর ফলে ওই এলাকার সব ধরনের ছোট-বড় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পানির ওপরে ভেসে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা রাতভর এই নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে ভোরের আগেই ধরা মাছ মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দ্রুত সটকে পড়ে। প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি মাছ ধরা হচ্ছে, যার বেশিরভাগই রেণু-পোনা ও ছোট আকারের মাছ।

আরও পড়ুনঃ  শার্শায় ১কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেড জালসহ প্রচলিত জালে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির বহু মাছ এই অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী একটি মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযান অনেক ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন শিবচরের সচেতন মহল।