কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার এক সাধারণ গৃহস্থের সচেতনতা ও দ্রুত সাড়াদানে একটি দুর্লভ গন্ধগোকুলের প্রাণ বাঁচল।২০-১-২০২৬খ্রিষ্টাব্দ মঙ্গলবার (বিকালে) ছিনাই ইউনিয়নের চতুর্ভুজ গ্রামের এক বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া গন্ধগোকুলটিকে প্রথমে ঘরের মালিক চটের ছালা (চটের বস্তা) দিয়ে চেপে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। প্রাণীটির নিরাপত্তা ও উদ্ধার নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় বন বিভাগকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাজারহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম তার স্টাফ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তারা সতর্কতার সাথে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে তা কুড়িগ্রাম জেলা বন অফিসে হস্তান্তর করেন। বন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে রাখার পর গন্ধগোকুলটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উপজেলার একটি নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
গন্ধগোকুল একটি নিশাচর প্রাণী, যা দেখতে অনেকটা বিড়াল ও বেজির মাঝামাঝি এবং লম্বা লেজযুক্ত। এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে জানান বন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গাছ ও বনাঞ্চল দিন দিন কমে যাওয়ায় এই প্রাণীটির দেখা এখন খুবই কম মেলে। এটি আমাদের প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যক্তির দ্রুত ও যৌক্তিক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তিনি সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করেন, কোনো বন্য প্রাণী দেখা গেলে তা না ভয় পেয়ে বা ক্ষতি না করে সরাসরি বন বিভাগকে জানাতে, যাতে প্রাণীটি নিরাপদে উদ্ধার ও প্রকৃতিতে ফিরে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের বন্য প্রাণী এখন আগের মতো চোখে পড়ে না। তাদের মতে, বৃক্ষনিধন ও বনভূমি সংকোচনের কারণে গন্ধগোকুলের আবাসস্থল কমে গেছে।
এ ঘটনা প্রমাণ করে যে জনসচেতনতা ও দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সাথে সহাবস্থান এবং তাদের রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।




















