রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জুনায়েদ এঁর দাফন সম্পন্ন।
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহারি গ্রামের কৃতি সন্তান, ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ চান্দু মিয়ার ছেলে মোঃ জুনায়েদ (৩৭)–এর জানাজার নামাজ আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিজ গ্রাম বালিহারি কওমি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হলুদ রঙের একটি পিকআপ ভ্যান থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায় চালক ও হেলপার। পরে হাসপাতালের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।
নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ নিশ্চিত করেছেন, নিহত জুনায়েদ সাকি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনে শান্তাহার রেল স্টেশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়িতে পৌঁছাতে পারেন নি।
নওগাঁ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খোরশেদ আলম জানান, হাসপাতাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কোথায় ও কীভাবে ঘটেছে কিংবা কারা মরদেহ হাসপাতালে রেখে গেছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, প্রিয়জনের অকাল মৃত্যুতে বালিহারি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী জানান, মোঃ জুনায়েদ ছিলেন নম্র-ভদ্র, পরোপকারী ও মানবিক একজন কর্মকর্তা। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের মাতম বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।



















