Dhaka ০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঝিকরগাছায় সুস্থ ব্যক্তিরা তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত শার্শা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুল গ্রেফতার

রামগঞ্জেনির্যাতনে নিহত স্ত্রীর লাশ মর্গে রেখেই পালিয়েছে স্বামী

রামগঞ্জে নির্যাতনে নিহত স্ত্রীর লাশ মর্গে রেখেই পালিয়েছে স্বামী

 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্মম নির্যাতনে সামিয়া আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ২টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্ত্রীর লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখেই কৌশলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সামিয়া আক্তার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই ইউনিয়নের উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করে হাফিজ মোল্লা। বিয়ের পর থেকেই ঢুনকো অজুহাতে কারণে-অকারণে অমানুষিক নির্যাতন চালাতো হাফিজ মোল্লা। এলাকাবাসী জানান সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে, হাফিজ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সে নিজেই সামিয়াকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে টানা ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সামিয়া মারা যায় । সামিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ঘাতক হাফিজ গ্রেফতার এড়াতে লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে, পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

শুক্রবার রাতে নিহত সামিয়ার লাশ তার বাবার বাড়ি ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়িতে নিয়ে আসলে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ঘাতক হাফিজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।

নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন,
বিয়ের পর থেকেই সামিয়ার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় আমি গত ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী ঘাতক হাফিজের ফাঁসি চাই।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ নসিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, নিহত ১ :

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে শুক্রবার একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছি। নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি

রামগঞ্জেনির্যাতনে নিহত স্ত্রীর লাশ মর্গে রেখেই পালিয়েছে স্বামী

আপডেটের সময়: ০৬:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

রামগঞ্জে নির্যাতনে নিহত স্ত্রীর লাশ মর্গে রেখেই পালিয়েছে স্বামী

 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্মম নির্যাতনে সামিয়া আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ২টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্ত্রীর লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখেই কৌশলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সামিয়া আক্তার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই ইউনিয়নের উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করে হাফিজ মোল্লা। বিয়ের পর থেকেই ঢুনকো অজুহাতে কারণে-অকারণে অমানুষিক নির্যাতন চালাতো হাফিজ মোল্লা। এলাকাবাসী জানান সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে, হাফিজ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন

নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সে নিজেই সামিয়াকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে টানা ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় সামিয়া মারা যায় । সামিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ঘাতক হাফিজ গ্রেফতার এড়াতে লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে, পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও টানাহেঁচড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

শুক্রবার রাতে নিহত সামিয়ার লাশ তার বাবার বাড়ি ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়িতে নিয়ে আসলে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ঘাতক হাফিজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।

নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন,
বিয়ের পর থেকেই সামিয়ার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় আমি গত ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী ঘাতক হাফিজের ফাঁসি চাই।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে শুক্রবার একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছি। নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।