কাহারোলে সরকারি দোকান ভাড়া ১৫ বছরের বকেয়া, তবুও চলছে যুবলীগ নেতার ব্যবসা!
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা পরিষদের আমতলা মোড় সংলগ্ন সরকারি মার্কেটের একটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বকেয়া রেখেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, মার্কেটের ৫ নম্বর দোকানটি প্রথমে মৃত কবির মাস্টার ৯৯ বছরের লীজ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে লীজের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে বর্তমান মালিক হিসেবে দায়িত্ব নেন উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ মোস্তফা আলম।
লীজ চুক্তি অনুযায়ী দোকানটির মাসিক ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে— প্রায় ১৫ বছর ধরে ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। মাসিক ১ হাজার টাকা হিসাবে বর্তমানে আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ভাড়া বকেয়া রয়েছে।
সরকারি নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে বকেয়া রেখেই দোকানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসনিকভাবে কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে “অনুপম ইলেকট্রনিক্স” নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সেখানে চালু রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা সত্ত্বেও উপজেলা পরিষদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দোকানটির বর্তমান লীজধারী কাহারোল উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি এলাকায় অনুপস্থিত এবং আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের হিসাব সহকারী কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও ছুটিতে থাকায় তার অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভাড়া বকেয়া রয়েছে— এমন ইঙ্গিত দিলেও নির্দিষ্ট তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউএনওর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস জানান, ইউএনও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি কর্মস্থলে যোগদান করলে বিষয়টি জানানো হবে। জরুরি প্রশাসনিক বিষয় ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।
সরকারি দোকান ভাড়া ১৫ বছরের বকেয়া


















