অবশেষে খুলনার পাইকগাছায় পুলিশ কর্মকর্তার মা ভারতী (৫৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এ হত্যা মামলাটি করেছেন নিহতের ছেলে পুলিশের এসআই চিন্ময় মন্ডল,যার নং-১২। ৩৯৬ ধারায় দায়ের করা এ হত্যা মামলার আসামীরা সবাই অজ্ঞাতনামা।
এদিকে ৫দিন অতিবাহিত হলেও নির্মম হত্যাকান্ডের কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। সুত্র জানান, এ পর্যন্ত ৩ ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ দ্রুত সময়ে হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করে নিহত নারীর মোবাইলে কথোপকথনের সুত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওসি মোঃ গোলাম কিবরিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, ঘটনার রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভারতী মন্ডলের ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র নছনছ করে টাকাসহ বেশকিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যের মা হয়তো চিনতে পারায় ঘাতকরা তার মাথার পিছনে স্বজোরো আঘাত করলে সে জ্ঞান হারায়। এ অবস্থায় তাকে বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে নিয়ে গঁলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়।
জানাগেছে, নিহতের স্বামী প্রভাষ মন্ডল ধর্মান্তরিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাইকগাছা পৌর সদরে বসবাস ও একমাত্র ছেলে পুলিশ অফিসার অন্যত্র কর্মরত থাকায় ভারতী মন্ডল বাড়িতে একাই থাকতেন।
নিহতের ছেলে পুলিশের এসআই চিন্ময় মন্ডল জানান, ঘটনার রাতে ১১টায় মোবাইলে মা’র সাথে আমার শেষ কথা হয়। সর্বশেষ রাত ১ টার দিকে শরীরের খোজ নিতে পুনরায় মোবাইল করি কিন্তু রিং হলেও মা আর ফোন রিসিভ করেনি। পরের দিন রবিবার সকালে বাড়ীর লোকের কাছে জানতে পারি মা’র মৃততেহ পুকুরে পেলানো অবস্থায়।
তবে, অনেকে বলছেন, যেহেতু পাকা বাড়ীর ঘরের দরজা বা তালা ভাংচুরের কোন চিহ্ন নেই । তাই সন্দেহ করা হচ্ছে টাকা ও দামী স্বর্ণের গহনা লুটপাট করতে ঐ রাতে দুর্বত্তরা কৌশলে কোন পরিচিত ব্যক্তিকে দিয়ে হয়তো ভারতী মন্ডল ঘরের দরজা খোলেন। এর পর তাকে হত্যা করে সবকিছু তছনছ করে ঘরে রক্ষিত টাকা ও ১০/১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ শনিবার রাতে উপজেলার লতা’র পুতলাখালীতে ভারতী মন্ডল বসতঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে লাশ চিংড়ি ঘেরে ফেলে টাকাসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।




















