মেয়াদ শেষ হলেও পুকুর দখলে রাখার অভিযোগ, জমির অংশ ফেরত চান মালিক পক্ষ
মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও ক্ষমতার জোরে পুকুর দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে আলমগীর হোসেন নামে এক লিজ গ্রহীতার বিরুদ্ধে। প্রকৃত মালিক লিজের মেয়াদ না বাড়ালেও জোরপূর্বক পুকুর দখলে রাখায় নিজের অংশ বুঝে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সেকেন্দার মোল্লার পুত্র নুরুজ্জামান। ঝিকরগাছার সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান বলেন, মির্জাপুর মৌজায় ৩৬১ নম্বর খতিয়ানে ১১৫৩ নম্বর দাগে আমাদের শরিকানা জমির মোট ২ একর ৪৮ শতক জমির একটি পুকুর আলমগীর হোসেন লিজ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৯১.৫ শতক জমির মালিক আমার পিতা। দুই বছর আগে সেই লিজের মেয়াদ শেষ হলে জমির বাকি মালিকরা লিজ নবায়ন করলেও আমরা আর লিজ দেইনি।
এরমধ্যে পুকুরের মোট জমির মধ্যে বাকি ১৫৬.৫ শতকের অংশীদারদের কাছ থেকে আলমগীর নিজে ৩৩ শতক জমি কিনেছেন এবং বাকী অংশের মালিকেরা লিজ নবায়ন করেছেন। কিন্তু আমরা লিজ না দিলেও আমাদের মালিকানাধীন জমির কোনো বৈধ চুক্তি বা মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও তিনি তা ছাড়ছেন না। বিগত ৫ বছরের মধ্যে আমরা মাত্র ১ বছরের টাকা পেয়েছি।
ইতিপূর্বে আলমগীর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়েছিলেন। এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জমিটি উদ্ধারের জন্য ঝিকরগাছা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানালেও আদালত সেই আদেশ না দিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করেন এবং পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন।
ইউসুফ মোল্লা ও আব্দুর রহমান এই দুজনের সহযোগিতায় আলমগীর এখনও পুকুরের দখল ধরে রেখেছেন। আমার অংশ বুঝিয়ে দিতে বললে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং তার পৈত্রিক জমির অংশ বুঝে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে আলমগীর হোসেনের মোবাইলে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি অসুস্থ আছেন, পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।



















