বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বদা সতর্ক থাকেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। চোরাচালান, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি বরাবরই প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।
এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১০ মার্চ ২০২৬ রাত ৪.১০ টায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রামচন্দ্রপুর বিওপি-এর একটি টহল দল চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়।
অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় সীমান্ত পিলার ৩২৭/২-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বৈরাগীপাড়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় রাখা ১৯১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৭৬,৪০০ টাকা ধরা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অভিযানে পালিয়ে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়াও মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “সীমান্তে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক, চোরাচালান রোধ করা বিজিবির প্রথম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব আমরা প্রতিদিন সচেতনতার সঙ্গে পালন করি।”
বিজিবির এই ধরণের অভিযান স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী বলছেন, “বিজিবির সতর্কতা ও নিয়মিত অভিযান আমাদের নিরাপত্তা বোধ আরও জোরদার করেছে। মাদক ও চোরাচালান নির্মূলের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
উল্লেখ্য, বিজিবি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, বরং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিরাপদ রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।




















