প্রতিকূলতার বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পাঁচ মাসের গল্প কথা।
কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তঘেঁষা জনপদ রৌমারী। নদীভাঙন, দুর্গম চরাঞ্চল আর নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এখানকার মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল হলো রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সদা জাগ্রত।
গল্প টা এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের।সীমিত জনবল ও নানাবিধ ফ্যাসিলিটির ঘাটতি নিয়েও দিন-রাত, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি সবকিছু উপেক্ষা করে এখানকার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-মিডওয়াইফ/সিনিয়র স্টাফ নার্স নবজাতককে পৃথিবীর আলো দেখানোর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
গত পাঁচ মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৬৫৮টি প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৬টি নবজাতক জীবিত জন্মগ্রহণ করেছে। প্রতিটি জীবিত শিশুর প্রথম কান্না যেন হাসপাতালের করিডোরে নতুন আশার সুর বয়ে এনেছে। প্রতিটি মায়ের মুখের হাসি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সকলের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।
তবে এই সাফল্যের গল্পের আড়ালে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের এক গল্প।মাত্র ২ জন মিডওয়াইফ এবং ১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এই বিপুল সংখ্যক প্রসবসেবা পরিচালনা করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব কিংবা নবজাতকের প্রসব পরবর্তী জটিলতায় আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. নবীউল ইসলামের পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে কাজকে সহজ করেছে।উল্লেখ্য এই হাসপাতালে গাইনি কনসালটেন্ট পদ থাকলে পদটি দীর্ঘকাল যাবৎ শুন্য।
কখনো দিনের ব্যস্ততা শেষ হওয়ার আগেই রাতের জরুরি রোগী এসে পৌঁছেছে, কখনো আবার গভীর রাতে প্রসববেদনায় কাতর কোনো মাকে নিরাপদ সেবা দিতে ছুটে যেতে হয়েছে।
প্রতিটি ডেলিভারির পেছনে ছিল দায়িত্ব, দক্ষতা এবং মানবিকতার এক অনন্য সমন্বয়। সীমিত জনবল নিয়েও তারা নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, যাতে কোনো মা ও নবজাতক প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
যদিও এই সময়ে ১২ টি মৃত জন্মের ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর হৃদয়ে বেদনার ছাপ রেখে গেছে। তবুও তারা হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও উন্নত মাতৃ ও নবজাতক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই পাঁচ মাসের গল্প শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এটি দায়িত্ববোধ, মানবতা, সংগ্রাম এবং আশার গল্প। সীমিত জনবল নিয়েও অসংখ্য মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার যে প্রচেষ্টা এখানে চলছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটি নবজাতকের প্রথম কান্না আর প্রতিটি মায়ের হাসিই যেন এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
সামনের দিনগুলিতেও এই সাফল্যের গল্প অব্যাহত থাকুক।




















