স্কুল ফিডিংয়ে আবারও বিতর্ক: অর্ধসিদ্ধ ও বিষ্ঠাযুক্ত ডিম সরবরাহের অভিযোগ
যশোরের ঝিকরগাছায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাদ্যের মান নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিওর বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
কাঁচা কলা ও কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগের পর এবার ওজনে কম, ঠিকমতো সেদ্ধ না করা এবং বিষ্ঠাযুক্ত ডিম শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম বিতরণের পর তারা খোসা ছাড়াতে গিয়ে দেখতে পায় ডিমগুলো পুরোপুরি সিদ্ধ হয়নি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং ডিম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে শনিবার (১৩ জুন) কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষ্ঠাযুক্ত ডিম সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকিফুজ্জামান আকিফ বলেন, “ডিমগুলো না ধুয়েই সেদ্ধ করায় খোসার গায়ে মুরগির বিষ্ঠা লেগে ছিল। নোংরা অবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিম নিতে চায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সুশীলন এনজিওর ঝিকরগাছা এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যারা ডিম সেদ্ধ করে তাদের অসাবধানতার কারণে কিছু ডিম কম সিদ্ধ হয়েছে। বিষ্ঠাযুক্ত ডিমের বিষয়টিও শুনেছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, “অল্পসিদ্ধ ডিম সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ডিম সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। বিষয়গুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি।
বারবার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি একটি পাইলটিং প্রোগ্রাম। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি।
এদিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সুশীলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিভাবকদের ভাষ্য, “এ ধরনের নোংরা ও নিম্নমানের খাবার খেলে শিশুদের ডায়রিয়া, বমিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর আগে পচা কলা, কাঁচা কলা, কাঁচা ডিম ও নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। তাই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হলেও সরবরাহকৃত খাদ্যের মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় কর্মসূচির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



















