আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন ও ল্যাপটপসহ ১৫৭টি মোবাইল উদ্ধার, গ্রেফতার ৫
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোবাইল চোরাচালান, ছিনতাই ও ডাকাতি চক্রের মূলহোতাসহ ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোনসহ মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চোরাই মোবাইলের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তনের অত্যাধুনিক মেশিন ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
আজ ২৫ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রেস রিলিজ সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন, ২০২৬ তারিখে সিএমপি কমিশনারের দিকনির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে এই সাফল্য অর্জন করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন,
১. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২) — বাড়ি: চরফ্যাশন, ভোলা (বর্তমানে চট্টগ্রামে ভাসমান)।
২. মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে ‘পার্টি সোহেল’ (৩৫) — চক্রের মূলহোতা, বাড়ি: লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
৩. আবু সাঈদ (৩৪) — বাড়ি: শিবচর, মাদারীপুর (বর্তমানে কোনাবাড়ী, গাজীপুর)।
৪. মোঃ শামীম (২৪) — বাড়ি: ময়মনসিংহ সদর, ময়মনসিংহ (বর্তমানে জয়দেবপুর, গাজীপুর)।
৫. সাইফুল ইসলাম (১৯) — বাড়ি: কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার (বর্তমানে নন্দনকানন, চট্টগ্রাম)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে হালিশহর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন ১ নং আবাসিক এলাকার তালেবিয়া জামে মসজিদের পাশে হাশেম সাহেবের বিল্ডিংয়ের একটি ভাড়া বাসায় মূল অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চক্রের মূলহোতা ‘পার্টি সোহেল’সহ বাকি ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দেশের বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম মূল্যে চোরাই মোবাইল ফোন সংগ্রহ করত। এরপর উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস, মাইক্রোস্কোপ এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোবাইলগুলোর আইএমইআই (IMEI) নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে ফেলত। নিখুঁতভাবে রূপ পরিবর্তনের পর এই ফোনগুলো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হতো।
উদ্ধারকৃত মালামালসমূহ:
মোবাইল ফোন: ১৫৭টি (যার মধ্যে ২৪টি আইফোন ও ১৩৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল)।
ল্যাপটপ: ৫টি (বিভিন্ন ব্র্যান্ডের)।
সিম কার্ড: বিভিন্ন কোম্পানির ২০১টি মোবাইল সিম।
নগদ টাকা: ১,০১,৫০০/- (এক লক্ষ পনেরশত) টাকা।
১টি মাইক্রোস্কোপ, ৪৪৫টি মোবাইলের কেসিং, মাল্টিপ্লাগ, বিভিন্ন চার্জার এবং আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন।
পুলিশের রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী। মূলহোতা ‘পার্টি সোহেল’-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ৮টি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর মনি-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রয়েছে ৪টি মামলা। আবু সাঈদ-এর বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১৩/৩৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২(২)/২৭ ধারা মোতাবেক মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং- ৬০, তারিখ- ২৫/০৬/২০২৬ খ্রি.)। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















