সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ১৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১০ জুন) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বৃদ্ধি রোধ এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, চিংড়ি মাছের রেণুপোনা এবং ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গাজীপুর, পদ্মশাখরা, ঘোনা, কাকডাঙ্গা, হিজলদী ও চান্দুরিয়া বিওপি এবং ঝাঁউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহলদল পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে পদ্মশাখরা বিওপির সদস্যরা সদর উপজেলার শাখরা আশার মোড় এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেণুপোনা জব্দ করেন। একই দিনে গাজীপুর বিওপির সদস্যরা নিমতলা এলাকা থেকে আরও ৬ লাখ টাকা মূল্যের রেণুপোনা আটক করেন।
অন্যদিকে ঘোনা বিওপির টহলদল মোবারকের মোড় এলাকা থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। কাকডাঙ্গা বিওপি কলারোয়ার কেড়াগাছি সীমান্ত এলাকা থেকে ২২ বোতল ভারতীয় মদ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ হাজার টাকা, জব্দ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়া হিজলদী বিওপি তালসারি এলাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা, চান্দুরিয়া বিওপি গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে ৪ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঝাঁউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প হরিণার মোড় এলাকা থেকে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।
বিজিবি জানিয়েছে, অসাধু চোরাকারবারিরা শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল। সময়মতো অভিযান পরিচালনার ফলে এসব পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সীমান্তে চোরাচালান কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্পের ক্ষতি হয় এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির নিয়মিত অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। স্থানীয় জনগণও এসব অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।



















