Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার গ্রাম্য সালিশে মারামারি; ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

কুড়িগ্রাম শহরের নাজিরা মুন্সিপাড়া গ্রামের ইবনে বতুতা ও লাভলী বেগমের মেয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রিমি বেগম(২২) এর উপর তার স্বামী নাজিরা ব্যাপারী পাড়া, খেজুরেরতল গ্রামের আফছার উদ্দীনের ছেলে জনি মিয়া(২৮) তার নিজ স্ত্রীর ৫ মাসের গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার এবং একই সাথে স্ত্রী রিমির উপর অযাচিত বিভিন্ন অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালায়। বিচার চেয়ে গ্রাম্য শালিস বৈঠকে উপস্থিত হলে মারপিটের শিকার হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

 

পরে এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা করছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

 

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের গ্রামে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপরোল্লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ বিকেলে নাজিরা ০৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে অভিযোগকারী লাভলী বেগম ও তার স্বামী ইবনে বতুতা তাদের মেয়ে রিমিকে নিয়ে গ্রাম্য শালিস বৈঠকে গেলে আলোচ্য বিষয় উত্থাপন না হতেই তুমুল বাকবিতণ্ডাতার এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে অভিযোগকারী লাভলী বেগমসহ তার স্বামী ইবনে বতুতা ও মেয়ে রিমি তিনজনই মারাত্নক আহত হন। পরে তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধা সদরে দুই সড়কের পাকাকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগকারী লাভলী বেগম ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে ঘটনার আইনগত বিচার দাবি করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের করার ১১দিন পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী লাভলী বেগম। তিনি বলেন, আমরা গরীব এবং অসহায় বলেই আমাদের আইনগত বিচার কেউ করতে চায় না।

 

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে অভিযোগকারী লাভলী বেগম বলেন, জনির সাথে তার মেয়ে রিমির ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। রিমির গর্ভের প্রথম সন্তানকেও নির্যাতন করে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। বর্তমান আমার মেয়ে আবারও ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই সন্তানকেও গর্ভপাত করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমার মেয়ে রিমিকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালাতে দেখে আমি আমার মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমাদের ৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালকে বলি। কমিশনার সালিশ বৈঠক আহবান করলে সালিশ বৈঠকেই আমাদের মারপিট করা হয়।

 

পরে আমি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তরা হলেন- ১) মোঃ আফছার উদ্দিন (৮০) পিতা-মৃত ধরোয়া ২। মোঃ জনি মিয়া (২৮) পিতা- মোঃ আফছার উদ্দিন, উভয় সাং নাজিরা ব্যাপারীপাড়া, খেজুরেরতলা, ৩। মোঃ রেদওয়ান (২০) পিতা- মোঃ এরশাদুল হক, সাং নাজিরা মুন্সিপাড়া, ৪। মোঃ বক্তার হোসেন (৬৫) পিতা মৃত ঘরোয়া, ৫। মোছাঃ রঞ্জিনা বেগম (৪৫) স্বামী- মোঃ আফতার উদ্দিন, উভয় সাং নাজিরা ব্যাপারীপাড়া, খেজুরেরতলা।

 

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিম রিমির সাথে কথা হলে তিনিও অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী জনি সে তার ভাবীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত। বিষয়টি আমার কাছে ধরা পরায় এখন আমার উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সে আমার কোন ভরণপোষণ ও দেয় না। আমার মা থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ তদন্ত করলে বিষয়টির সমাধান হতো। কিন্তু কী কারণে পুলিশ তদন্ত করছে না সেটা জানিনা। তবে আমি শুনেছি পুনঃরায় একটি সালিশ বৈঠক করার জন্য টালবাহানা করা হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনি ও জনির পরিবারের সাথে কথা হলে তারা জানান, রিমি ও তার মা লাভলী বেগমের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের অপেক্ষায় আছি।

 

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হয় সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদ প্রমানিকের সাথে তিনি পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, হ্যা শুনেছি উভয়পক্ষ আবারও সালিশ বৈঠকে বসবে। এজন্য তদন্ত কাজ অগ্রগামি করা হয়নি।

 

এ বিষয় নিয়ে কথা হয় পুনঃরায় সালিশ বৈঠক আহ্বানকারী ৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের সাথে, তাকে প্রশ্ন করা হয় পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের নামে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না- জবাবে তিনি বলেন, না তেমনটি নয়। উভয় পক্ষ বৈঠকের জায়গা নির্ধারণ করতে পারলেই পরবর্তী পুনঃরায় সালিশ বৈঠকে ঘটনার নিস্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।

 

অন্তঃসত্ত্বা রিমির উপর এ ধরণের অমানুষিক নির্যাতন এবং সালিশ বৈঠকে গিয়ে মারপিটের শিকার হওয়া এবং পুনঃরায় সালিশ বৈঠক আহবানের বিষয়টি কুড়িগ্রাম নাজিরা এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার গ্রাম্য সালিশে মারামারি; ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

আপডেটের সময়: ০৮:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রাম শহরের নাজিরা মুন্সিপাড়া গ্রামের ইবনে বতুতা ও লাভলী বেগমের মেয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রিমি বেগম(২২) এর উপর তার স্বামী নাজিরা ব্যাপারী পাড়া, খেজুরেরতল গ্রামের আফছার উদ্দীনের ছেলে জনি মিয়া(২৮) তার নিজ স্ত্রীর ৫ মাসের গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার এবং একই সাথে স্ত্রী রিমির উপর অযাচিত বিভিন্ন অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালায়। বিচার চেয়ে গ্রাম্য শালিস বৈঠকে উপস্থিত হলে মারপিটের শিকার হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

 

পরে এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা করছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

 

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের গ্রামে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপরোল্লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ বিকেলে নাজিরা ০৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে অভিযোগকারী লাভলী বেগম ও তার স্বামী ইবনে বতুতা তাদের মেয়ে রিমিকে নিয়ে গ্রাম্য শালিস বৈঠকে গেলে আলোচ্য বিষয় উত্থাপন না হতেই তুমুল বাকবিতণ্ডাতার এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে অভিযোগকারী লাভলী বেগমসহ তার স্বামী ইবনে বতুতা ও মেয়ে রিমি তিনজনই মারাত্নক আহত হন। পরে তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় যুক্তদের নিয়ে যশোরে ‘টিচার্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ গঠন: ইলিয়াস আহ্বায়ক, সোহেল সদস্য সচিব

অভিযোগকারী লাভলী বেগম ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে ঘটনার আইনগত বিচার দাবি করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের করার ১১দিন পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী লাভলী বেগম। তিনি বলেন, আমরা গরীব এবং অসহায় বলেই আমাদের আইনগত বিচার কেউ করতে চায় না।

 

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে অভিযোগকারী লাভলী বেগম বলেন, জনির সাথে তার মেয়ে রিমির ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। রিমির গর্ভের প্রথম সন্তানকেও নির্যাতন করে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। বর্তমান আমার মেয়ে আবারও ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই সন্তানকেও গর্ভপাত করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমার মেয়ে রিমিকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালাতে দেখে আমি আমার মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমাদের ৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালকে বলি। কমিশনার সালিশ বৈঠক আহবান করলে সালিশ বৈঠকেই আমাদের মারপিট করা হয়।

 

পরে আমি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তরা হলেন- ১) মোঃ আফছার উদ্দিন (৮০) পিতা-মৃত ধরোয়া ২। মোঃ জনি মিয়া (২৮) পিতা- মোঃ আফছার উদ্দিন, উভয় সাং নাজিরা ব্যাপারীপাড়া, খেজুরেরতলা, ৩। মোঃ রেদওয়ান (২০) পিতা- মোঃ এরশাদুল হক, সাং নাজিরা মুন্সিপাড়া, ৪। মোঃ বক্তার হোসেন (৬৫) পিতা মৃত ঘরোয়া, ৫। মোছাঃ রঞ্জিনা বেগম (৪৫) স্বামী- মোঃ আফতার উদ্দিন, উভয় সাং নাজিরা ব্যাপারীপাড়া, খেজুরেরতলা।

 

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিম রিমির সাথে কথা হলে তিনিও অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী জনি সে তার ভাবীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত। বিষয়টি আমার কাছে ধরা পরায় এখন আমার উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সে আমার কোন ভরণপোষণ ও দেয় না। আমার মা থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ তদন্ত করলে বিষয়টির সমাধান হতো। কিন্তু কী কারণে পুলিশ তদন্ত করছে না সেটা জানিনা। তবে আমি শুনেছি পুনঃরায় একটি সালিশ বৈঠক করার জন্য টালবাহানা করা হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনি ও জনির পরিবারের সাথে কথা হলে তারা জানান, রিমি ও তার মা লাভলী বেগমের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের অপেক্ষায় আছি।

 

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হয় সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুদ প্রমানিকের সাথে তিনি পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, হ্যা শুনেছি উভয়পক্ষ আবারও সালিশ বৈঠকে বসবে। এজন্য তদন্ত কাজ অগ্রগামি করা হয়নি।

 

এ বিষয় নিয়ে কথা হয় পুনঃরায় সালিশ বৈঠক আহ্বানকারী ৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা কামালের সাথে, তাকে প্রশ্ন করা হয় পুনঃরায় সালিশ বৈঠকের নামে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না- জবাবে তিনি বলেন, না তেমনটি নয়। উভয় পক্ষ বৈঠকের জায়গা নির্ধারণ করতে পারলেই পরবর্তী পুনঃরায় সালিশ বৈঠকে ঘটনার নিস্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।

 

অন্তঃসত্ত্বা রিমির উপর এ ধরণের অমানুষিক নির্যাতন এবং সালিশ বৈঠকে গিয়ে মারপিটের শিকার হওয়া এবং পুনঃরায় সালিশ বৈঠক আহবানের বিষয়টি কুড়িগ্রাম নাজিরা এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।