অবরুদ্ধ কয়েকশ মানুষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের খাজাবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকশ মানুষ। প্রভাবশালী একটি পক্ষের এমন পদক্ষেপে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে মানবিক সংকট, অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বি.আর.এস ২৫ খতিয়ানের ১৯৯ নম্বর দাগভুক্ত রাস্তা, যা বহু বছর ধরে স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, সেটি এখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তাটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই ছিল না, বরং এলাকার শতাধিক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আব্দুল মালেক মোড়ল, মোকছেদ আলী, আব্দুল খালেক মোড়ল, জাহাঙ্গীর মোড়ল, জাকির হোসেন, সেলিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলামসহ অনেকেই এই পথ ব্যবহার করে স্কুল, বাজার ও জরুরি কাজে যাতায়াত করতেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কয়েকগুণ বেশি পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাতজন এলাকাবাসী মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়। তবে প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল কোনো নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই জনসাধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মৌলিক চলাচলের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধভাবে স্থাপিত সব বাধা অপসারণ করে রাস্তাটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে কালিগঞ্জের এই মানবিক সংকট নিরসনে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি খাজাবাড়িয়ার মানুষকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হবে।



















