কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি: পুরস্কৃত হলেন ১৫ পুলিশ সদস্য।
কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে বিশেষ পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। মোট চারটি চাঞ্চল্যকর ও প্রশংসনীয় ঘটনায় অবদানের জন্য তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
যে ৪টি ঘটনায় এই পুরস্কার প্রদান করা হয়:
১. জনভোগান্তি লাঘবে ট্রাফিক পুলিশের মানবিক উদ্যোগ:
গত ১০ জুন ভারী বর্ষণের কারণে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের লুপ-২ নামার প্রান্তে ড্রেনের মুখে ময়লা জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল মোঃ কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে নিজ হাতে ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। তার এই প্রশংসনীয় কাজের জন্য ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের কনস্টেবল মোঃ কামরুজ্জামানকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’, অর্থ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
২. আদাবরে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী গ্রেফতারে সাহসিকতা:
গত ১৬ জুন আদাবরের মফিজবাগ এলাকায় এক বিকাশ দোকানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযানকালে ছিনতাইকারীদের অতর্কিত হামলায় আদাবর থানার ওসি এবং একজন এসআই গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে ২ জন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়। এই সাহসিকতার জন্য আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বিপিএম, পিপিএম, এসআই তরুণ কুমার, এএসআই আব্দুল্লাহ সাহক সবুজ, এএসআই সুধন চন্দ্র দে, এএসআই মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং এএসআই মোঃ রবিউল ইসলামকে পুরস্কৃত করা হয়।
৩. আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন:
চট্টগ্রামের আনোয়ারার চেনামতি এলাকায় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা ডিবি ও আনোয়ারা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ জুন পটিয়া থেকে মূল আসামি রিমন বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এই কৃতিত্বের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেল পিপিএম (বার), তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিমুল চন্দ্র দাস, এসআই মোহাম্মদ আবু সেলিম রেজা এবং কনস্টেবল মোঃ রিমন হোসেন, পিপিএম-কে পুরস্কৃত করা হয়।
৪. চকরিয়ায় ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতবাড়ির গ্রিল কেটে ডাকাতি এবং মা-মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দ্রুত ভিকটিমদের উদ্ধার করে এবং ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই সফল অভিযানের জন্য পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ, মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র) মোঃ মাসুদ, এএসআই সজীব দাস, কনস্টেবল মাহফুজুর রহমান এবং কনস্টেবল হেফাজত হোসেনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের এই ত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ কাজের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।




















