ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর
সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের সানাপাড়া গ্রামে মাটি বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় ওমর ফারুক (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওমর ফারুক স্থানীয় মোঃ আরাফাত গাজীর শিশু পুত্র। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশেই অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ওমর ফারুক। এ সময় হঠাৎ দ্রুতগতিতে আসা একটি মাটি বহনকারী ট্রলি অসাবধানতাবশত তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি মুহূর্তেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ধুলিহর সানাপাড়া গ্রাম।
এদিকে, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেন জানান, সাতক্ষীরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ঠিকাদার নদী খননের মাটি অবৈধভাবে উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছে। এসব ট্রলি প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যা জনসাধারণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ মাটি পরিবহন ঠেকাতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গেলে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা পরে জামিনে মুক্তি পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়ে অভিযুক্তরা আবারও বেপরোয়া ভাবে মাটি পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার জন্য নতুন করে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ মাটি বহনকারী ট্রলির লাগামহীন চলাচলের কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।



















